সিলেট ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩:৩৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৮, ২০২৬
আন্তজাতিক ডেস্ক ::
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে যাচ্ছে ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভা।
দেশটির ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেই পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকপ্রস্তাব (অবিচুয়ারি রেফারেন্স) গ্রহণ করার কথা রয়েছে।
আজ বুধবার থেকেই ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভা ও নিম্নকক্ষ লোকসভায় এই প্রস্তাব আনা হবে।
এদিন সকালে প্রকাশিত ভারতীয় সংবাদ সংস্থা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
এদিকে রাজ্যসভার বুধবারের কার্যসূচিতে দেখা যায়, দিনের অধিবেশনের শুরুতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ভাষণের পরপরই প্রয়াতদের স্মরণ পর্বে খালেদা জিয়াসহ মোট তিনজনের জন্য শোক প্রস্তাব তোলা হবে। বাকি দুজন হলেন রাজ্যসভার সাবেক দুই সদস্য এল গণেশন ও সুরেশ কলমাদি।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। পরদিন জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে জানাজা শেষে তাকে তার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হয়।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর আসার পরপরই এক এক্স পোস্টে শোক জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমানে চেয়ারম্যান) তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক একটি পত্রও দেন তিনি। বিএনপির তখনকার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে ‘প্রিয় তারেক রহমান সাহেব’ সম্বোধন করে মোদী সেখানে লেখেন, ‘খালেদা জিয়ার প্রস্থান অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি করলেও তার দৃষ্টিভঙ্গি ও উত্তরাধিকার টিকে থাকবে।’
এছাড়া ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় এসে খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি ভারত সরকারের শোকবার্তা তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করেন।
এরপর ১ জানুয়ারি ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনে গিয়ে খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এদিন শোক বইতে তিনি লেখেন, ‘ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
উল্লেখ্য, ২৪-এর অভ্যুত্থানের পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপড়েনের মধ্যে খালেদা জিয়ার জন্য শোক ও শ্রদ্ধা জানাতে মোদী সরকারের এমন ভূমিকাকে বিএনপির নতুন নেতৃত্বের প্রতি দিল্লির ‘কৌশলগত যোগাযোগ চেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয় ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে।