মুসা খান মসজিদ সংরক্ষণে ২ লাখ ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত: ৫:০৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২৬

মুসা খান মসজিদ সংরক্ষণে ২ লাখ ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) অবস্থিত ঐতিহাসিক মোঘল স্থাপনা মুসা খান মসজিদ সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে ২ লাখ ৩৫ হাজার ডলার অনুদান দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশন (এএফসিপি) থেকে এ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসা খান মসজিদ প্রাঙ্গণে সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এই প্রকল্পে ২ লাখ ৩৫ হাজার ডলার ব্যয় করা হবে যা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।

 

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাবিনা আলম।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা মুসা খান মসজিদ ঘুরে দেখেন। এসময় এই মসজিদের বিভিন্ন ইতিহাস অতিথিদের সামনে তুলা ধরা হয়।

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘১৭০০ শতাব্দীর মুসা খান মসজিদের সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, এবং এর অংশ হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উদার সহায়তার জন্য আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।’

 

নিতাই রায় বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, মুসা খান মসজিদ প্রকল্পটি সম্পন্ন হওয়ার পর মুঘল স্থাপত্যশৈলীসহ এই নিদর্শনটি তার ঐতিহাসিক মর্যাদা ও স্বকীয়তা পুনরুদ্ধার করবে এবং আমাদের সমৃদ্ধ অতীতের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। আমাদের সম্মিলিত এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে যা সাংস্কৃতিক পর্যটনকে উৎসাহিত করবে, গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি করবে এবং তরুণ প্রজন্মকে ঐতিহ্য সংরক্ষণে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করবে।’

 

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে যে সংস্কৃতি সংরক্ষণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অদৃশ্য সম্পদ, এবং গত দুই দশকে অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশন-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি সংরক্ষণে সহায়তা করতে পেরে আমরা গর্বিত। বাংলাদেশে এই তহবিলের আওতায় এটি আমাদের ১৩তম প্রকল্প।’

 

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এই সংস্কার কাজের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ২ লাখ ৩৫ হাজার ডলার প্রদান করবে, যা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি, সংস্কার কাজে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি দক্ষতাও প্রদান করা হবে। এটি শুধু এই সুন্দর স্থাপত্য পুনরুদ্ধারের প্রকল্প নয়, বাংলাদেশি প্রত্নতত্ত্ববিদ ও সংরক্ষণবিদদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং একটি ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরির উদ্যোগেও অন্তর্ভুক্ত, যা বিশ্বের গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।’

 

গত ২০ বছরে বাংলাদেশে প্রায় ৮ লাখ ৩৫ হাজার ডলার ব্যয়ে ১৩টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, মসজিদ সংরক্ষণ উদ্যোগে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এবং মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে পেরে আমরা আনন্দিত। এই প্রকল্প একদিকে যেমন একাডেমিক গবেষণা, শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা, সাংস্কৃতিক সচেতনতা এবং ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে, তেমনি শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন একাডেমিক বিভাগের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এটি শুধুমাত্র একটি পুনরুদ্ধার প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি জ্ঞান ও প্রেরণার একটি কেন্দ্রে পরিণত হবে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031