গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার আশাকে টেকসই করেছে বাংলাদেশের নির্বাচন আনফ্রেলের মূল্যায়ন

প্রকাশিত: ৩:৩৮ অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০২৬

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার আশাকে টেকসই করেছে বাংলাদেশের নির্বাচন আনফ্রেলের মূল্যায়ন

লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::

 

বাংলাদেশে ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আনফ্রেল। সংস্থাটির চূড়ান্ত মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামগ্রিকভাবে নির্বাচনের পরিবেশ ছিল শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ।

প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার প্রশংসা করে বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত পরিকল্পনা, ঝুঁকিভিত্তিক নিরাপত্তা মোতায়েন এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থার কারণে ভোটের দিন জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। কেন্দ্রীয় পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত তত্ত্বাবধানও নির্বাচন ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

 

তবে ইতিবাচক মূল্যায়নের পাশাপাশি বেশ কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেছে সংস্থাটি। আনফ্রেল বলেছে, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, প্রচারণা এবং গণমাধ্যম কাভারেজের জন্য আইনি কাঠামো থাকলেও তার কার্যকর ও সমান প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন ছিল। বিশেষ করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ নিষ্পত্তিতে সময়ক্ষেপণ এবং অসম প্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন অংশীজন।

প্রতিবেদনে অর্থনির্ভর রাজনীতিকে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রচারণায় অতিরিক্ত ব্যয় ও অনানুষ্ঠানিক অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ ছিল ব্যাপক। কিছু ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রচারণায় অর্থ খরচের ঘটনাও সামনে এসেছে।

 

এ ছাড়া পোস্টার ও তারপুলিন ব্যবহারের মতো বিধিনিষেধ প্রয়োগে অসঙ্গতি নির্বাচন কমিশনের নিয়ম বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

 

ভোটের দিন কিছু কেন্দ্রের বাইরে দলীয়ভাবে পরিচালিত ভোটার শনাক্তকরণ ডেস্ক নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে আনফ্রেল। সেখানে ভোটারদের মধ্যে দলীয় প্রতীক ও প্রার্থীর ছবি সংবলিত স্লিপ বিতরণ করা হচ্ছিল। পর্যবেক্ষকরা লক্ষ্য করেন, কিছু ভোটার ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের সময় সেই স্লিপ পোলিং এজেন্টদের দেখাচ্ছিলেন। এই প্রক্রিয়াকে ভোট কেনাবেচা বা প্রভাব বিস্তারের সম্ভাব্য মাধ্যম হিসেবে দেখছে সংস্থাটি।

 

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও মিশ্র পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। ভোটের দিন অধিকাংশ এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকলেও নির্বাচনপূর্ব সময় ও প্রচারণা চলাকালে ভয়ভীতি, প্রভাব বিস্তার এবং ‘মাসল পাওয়ার’ ব্যবহারের অভিযোগ ছিল বলে জানিয়েছে আনফ্রেল। স্থানীয় পর্যায়ে কিছু ক্ষেত্রে পরোক্ষ চাপ প্রয়োগের কথাও উঠে এসেছে।

 

সংস্থাটি মনে করছে, নির্বাচন দিবসে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গৃহীত পদক্ষেপ কার্যকর ছিল। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই ইতিবাচক পরিবেশ ধরে রাখতে হলে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, নিয়মিত নথিবদ্ধকরণ এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031