সিলেট ২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯:৪৩ অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০২৬
প্রতিনিধি / বাগেরহাট ::
চিতলমারী উপজেলা–এর সীমান্তবর্তী বাগেরহাট সদর উপজেলা–এর খালিশপুর সম্মিলনী শিক্ষা নিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। গত রোববার থেকে বৃহস্পতিবার (২১ মে) পর্যন্ত ধাপে ধাপে এসব শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাদের চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স–এ ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসা শেষে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরলেও আবারও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।
প্রচণ্ড গরমে অসুস্থতার আশঙ্কা চিতলমারী স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শর্মী রায় জানান, প্রচণ্ড গরমে পানিশূন্যতা ও হিটস্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা অচেতন হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বেশিরভাগই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। তবে একজন এখনও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। ক্লাসরুমে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল ও ফ্যানের ব্যবস্থা না থাকায় এবং পানিশূন্যতার কারণে এমনটা হয়ে থাকতে পারে।”
চারদিনে ১৪ শিক্ষার্থী অসুস্থ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাকিব খান জানান, কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যালয়ে অস্বস্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। গত চারদিনে ১৪ জন ছাত্রী অচেতন হয়ে পড়ে।
অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে জৈতা বিশ্বাস,শীর্ষা সরকার,আখি,তৃষ্ণা,প্রিয়ন্তী,আরধ্যা গাইন,ঐশী,নবনীতা,দৃষ্টিপাত,সঙ্গীতা,দীঘা রানা।
তাদের মধ্যে অনেককে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। তবে দীঘা রানার শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় বুধবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার আবারও অর্পা মজুমদার, রিয়া মণ্ডল ও শীর্ষা সরকার অসুস্থ হয়ে পড়ে। “ক্লাসরুমে ফ্যান নেই” সহকারী শিক্ষক শাকিব খান অভিযোগ করে বলেন,“বিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে পর্যাপ্ত ফ্যান ও বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।” তিনি দ্রুত শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
শিক্ষা অফিসের বক্তব্য এ বিষয়ে চিতলমারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার প্রদীপ কুমার ভৌমিক জানান, খালিশপুর সম্মিলনী শিক্ষা নিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি প্রশাসনিকভাবে বাগেরহাট সদর উপজেলার অন্তর্ভুক্ত। তবে বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা চিতলমারী কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে থাকে।
আতঙ্কে অভিভাবকরা একসঙ্গে এত শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ায় অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে দ্রুত ফ্যান স্থাপন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।