সিলেট ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৪:২৯ অপরাহ্ণ, জুন ৪, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষাপটে বিশ্ব টিকাবিষয়ক সংস্থা গ্যাভির সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার মার্কিন সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটিকে এ তথ্য জানান।
রুবিও বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন গত বছর গ্যাভির অর্থায়ন বন্ধ করার পর কয়েক সপ্তাহ আগে পুনরায় সহযোগিতা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখন বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও চলমান প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে চায়।
গ্যাভি বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোকে টিকা কেনায় সহায়তা করে, যাতে তারা শিশুদের হাম, ডিপথেরিয়া ও অন্যান্য রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। পাশাপাশি সংস্থাটি মহামারি ও রোগ প্রাদুর্ভাব মোকাবিলাতেও কাজ করে। বর্তমানে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো ও উগান্ডায় চলমান বুন্ডিবুগিও প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় গ্যাভি ৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে।
এর মধ্যে ১০ মিলিয়ন ডলার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া কার্যক্রমে এবং ৪০ মিলিয়ন ডলার ভবিষ্যতে টিকা সরবরাহ দ্রুত করার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য দপ্তর গ্যাভির তহবিল বন্ধ করার ঘোষণা দেয়, যা বছরে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ ছিল। পাশাপাশি কংগ্রেস অনুমোদিত আরও ৬০০ মিলিয়ন ডলারের তহবিলও স্থগিত রাখা হয়, যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটরদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।
গ্যাভির প্রধান নির্বাহী সানিয়া নিশতার বলেন, ‘মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পুনরায় সম্পৃক্ততার সিদ্ধান্ত খুবই উৎসাহব্যঞ্জক এবং এটি বৈশ্বিক সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কংগ্রেস অনুমোদিত অর্থ ছাড় করা হলে গ্যাভি বিশ্বকে রোগ প্রাদুর্ভাব থেকে আরও ভালোভাবে সুরক্ষা দিতে পারবে।’
অন্যদিকে মার্কিন নীতিনির্ধারণে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে টিকা সংরক্ষণে ব্যবহৃত থিমেরোসাল নামক উপাদান। কিছু মহল, বিশেষ করে টিকা-বিরোধী গোষ্ঠী, এটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এর কোনো ক্ষতিকর প্রভাব পাওয়া যায়নি।
গ্যাভি জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে নতুন প্রজন্মের টিকার দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যেখানে এই উপাদানটি আর ব্যবহৃত হয় না। মার্কিন স্বাস্থ্য বিভাগও জানিয়েছে, গ্যাভির সঙ্গে আলোচনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।