সিলেট ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩:৫২ অপরাহ্ণ, মে ৩, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, তেমনি জনপ্রশাসনের কোনো পদও চিরস্থায়ী নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদকেই ‘গুরুত্বপূর্ণ ও অনিবার্য’ ভাবার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘দেশের যেকোনো স্থানেই যেকোনো সময় জনপ্রশাসনের যে কোনো পদে দায়িত্ব পালনের জন্য নিজেদেরকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখুন।’
আজ রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি দেশের জনপ্রশাসনে পদোন্নতি কিংবা পোস্টিংয়ের জন্য যতগুলো প্রশাসনিক পদ রয়েছে, প্রতিটি পদই রাষ্ট্র এবং সরকারের জন্য অবশ্যই প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং শুধুমাত্র পদোন্নতি কিংবা নিজেদের পছন্দের জায়গায় পোস্টিংয়ের জন্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস করলে সেটি সার্বিকভাবে জনপ্রশাসনের দক্ষতা এবং নিরপেক্ষতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সুতরাং জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের সব পদেই কাজ করার মানসিকতা থাকা জরুরি।
তিনি বলেন, ‘জনপ্রশাসনের যেকোনো স্তরের কর্মকর্তারা যদি রাষ্ট্রের প্রয়োজনে যেকোনো সময় যেকোনো পদে দেশের স্বার্থে যেকোনো স্থানে কাজ করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকেন। আমার বিশ্বাস, জনপ্রশাসনে পেশাদারিত্ব গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা রাখবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে একটি জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী শাসন ব্যবস্থার প্রত্যাশায় থাকা সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হচ্ছে বর্তমান সরকার। সুতরাং, জনগণ সরকারের প্রতিটি কাজের মাধ্যমে তাদের আকাঙ্ক্ষার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চায়।’
‘সরকারের নীতি ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলে প্রশাসকগণই জনপ্রশাসনের সঙ্গে সরকারের প্রধান সেতুবন্ধন।আপনাদের সততা, কর্মদক্ষতা এবং দায়বদ্ধতার ওপর সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের সাফল্য অনেকখানি নির্ভর করে’, যোগ করেন সরকারপ্রধান।
দেশে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে জনগণের দুর্ভোগ না বাড়িয়ে সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা, প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার বদ্ধপরিকর। এ নিয়ে কারও মনে কোনো সংশয়ের কারণ নেই।
সন্ধ্যা ৭টার পর মার্কেট-শপিংমলে যাতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সতর্কতা অবলম্বন করা হয়, সেই দিকে জেলা প্রশাসকদের নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি কার্যালয়ে সেবাপ্রার্থীরা যেন অপ্রয়োজনীয় হয়রানি, বিলম্ব কিংবা অনিয়মের শিকার না হন, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। জনগণের যেকোনো ন্যায্য অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে প্রতিকারের ব্যবস্থা করতে হবে।’
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বাজার সিন্ডিকেট ও অবৈধ মজুতদারের বিরুদ্ধে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করার নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান। কৃষকদের ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করারও তাগিদ দেন সরকারপ্রধান।
তিনি বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিত ও কার্যত দৃশ্যমান করা জরুরি। সেদিকে সবাইকে নজর দিতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভোগান্তি নিরসন করতে হবে। বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতনের বিষয়ে কঠোর নজর দেওয়া প্রয়োজন।’
সরকারপ্রধান আরও বলেন, ‘আমরা একটি প্রযুক্তিনির্ভর, জ্ঞানভিত্তিক ও নৈতিক রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে ধর্ম, বর্ণ, মত বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য থাকবে না। জাতীয় ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমাদের মধ্যে মতভেদ থাকতে পারে, থাকা স্বাভাবিক কিন্তু দেশের স্বার্থে ‘‘সবার আগে বাংলাদেশ’’।’
এর আগে সকাল সোয়া ১০টার পর সচিবালয়ে নিজ দপ্তর থেকে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সম্মেলনস্থলে যান তারেক রহমান। এ সময় রাস্তার দুই ধারে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে তাদের অভিবাদনের জবাব দেন। এর কিছুক্ষর পর ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন করেন তারেক রহমান।
চার দিনব্যাপী এ সম্মেলন চলবে আগামী ৬ মে পর্যন্ত। এবারের সম্মেলনে দেশের আটটি বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জেলার ডিসিরা অংশ নিয়েছেন।
সরকারের নীতি, উন্নয়ন কর্মসূচি ও মাঠ প্রশাসনের জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা, দিকনির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রতিবছর এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।