সিলেট ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৫:৪৮ অপরাহ্ণ, মে ৪, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন ও জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সরকারের ওপর জনগণের পূর্ণ ম্যান্ডেট রয়েছে। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া নাজুক ও বিশৃঙ্খল অবস্থা থেকে বিভিন্ন সংস্থাকে পুনর্গঠন ও শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন।
সোমবার (৪ মে) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘বলপ্রয়োগ বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি-এর সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পুলিশ প্রশাসনে সাম্প্রতিক বদলি ও বাধ্যতামূলক অবসর প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয় বরং মন্ত্রণালয়ের একটি নিয়মিত রুটিন কার্যক্রম। নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থা এবং অবসর গ্রহণ—সবই আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এসব প্রশাসনিক কাজে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। বাধ্যতামূলক অবসরের বিষয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে এবং বিধি মোতাবেক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের অবিচার না ঘটে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়া অপরাধীদের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আদালত থেকে জামিন পাওয়া আইনি বিষয়। তবে এসব চিহ্নিত অপরাধীরা যাতে সমাজে পুনরায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য পুলিশ সতর্ক রয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, হত্যাকাণ্ডসহ যেকোনো অপরাধের ক্ষেত্রে আইন নিজস্ব গতিতে চলবে এবং অপরাধীদের অবশ্যই আইনের আওতায় আসতে হবে।
তিনি বলেন, ১ লা মে থেকে সারাদেশে মাদক, অবৈধ অস্ত্র এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ, র্যাব এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সমন্বিতভাবে এই অভিযানে কাজ করছে। মাদক ব্যবসার মূল হোতা এবং সীমান্ত দিয়ে চোরাচালানে জড়িত বড় সিন্ডিকেটগুলোকে ধরা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। মাদকের এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে নিষ্কৃতি পেতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান পুলিশের ইউনিফর্ম নিয়ে অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন ইউনিফর্মের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, পুলিশের আবেদন ও সার্বিক গ্রহণযোগ্যতার কথা বিবেচনা করে আগের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের আদলে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মেট্রোপলিটন ও জেলা পুলিশের শার্টের রঙ আগের মতো বহাল থাকলেও প্যান্টের ক্ষেত্রে ‘খাকি’ রঙ নিশ্চিত করা হয়েছে। কাপড় উৎপাদন ও প্রস্তুতির জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন হওয়ায় দ্রুতই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হবে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্যবস্থাপনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থানরত প্রায় ১২-১৪ লক্ষ বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, মাদক চোরাচালান রোধ এবং ক্যাম্পের ভেতরে-বাইরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। জয়েন্ট ফোর্সের লিডারশিপ ও অপারেশনাল বিষয়গুলো নিয়েও সভায় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।