সিলেট ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩:৩৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
স্পোর্টস ডেস্ক ::
ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে এগিয়ে থাকা হ্যারি কেইন যতটা সম্ভব দীর্ঘ সময় শীর্ষ পর্যায়ে থাকতে চান। তবে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এনএফএলে কিকার হওয়ার বিষয়টি এবার থেকে আরও গুরুত্ব দিয়ে ভাববেন।
৩৩ বছর বয়সী কেইন গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ৭৩ গোল করেছেন। এমন অসাধারণ মৌসুমের পর আগামী মাসে মর্যাদাপূর্ণ ব্যালন ডি’অর পুরস্কার জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন তিনি। তাঁর দল বিশ্বকাপও শেষ করেছে তৃতীয় হয়ে।
এখন তার মনোযোগ নেশন্স লিগ এবং ২০২৮ ইউরো জয়ের লক্ষ্যে ইংল্যান্ডের অভিযানে। একই সঙ্গে খেলাধুলা বদলের পুরোনো আগ্রহও ধরে রেখেছেন বায়ার্ন মিউনিখের এই গোলমেশিন।
গলফার হওয়ার স্বপ্ন অবশ্য ওয়েন্টওয়ার্থে গেলেই কিছুটা ফিকে হয়ে যায় বলে মজা করেছেন কেইন। তবে এনএফএলে কিকার হওয়ার ইচ্ছাটা এখনো রয়ে গেছে।
কেইন বলেন, ‘এটি এমন একটি বিষয়, যা নিয়ে আমি আরও গুরুত্ব দিয়ে ভাবব। আগামী পাঁচ-ছয় বছরে আমার ক্যারিয়ার কোন দিকে যায়, অনুপ্রেরণা কতটা থাকে এবং আমি কী করতে চাই—এসবের ওপর সবকিছু নির্ভর করবে।
‘এনএফএলে যাওয়ার বিষয়টি গলফের চেয়ে অনেক বেশি বাস্তবসম্মত—এটা বলা যায়।’
এ ক্ষেত্রে কেইনের অনুপ্রেরণা হতে পারেন ডালাস কাউবয়েজের ব্র্যান্ডন অব্রে। এনএফএলের অন্যতম সেরা কিকার হিসেবে বিবেচিত অব্রে আগে ফুটবল খেলেছেন এবং মেজর লিগ সকারের দল টরন্টো এফসির হয়ে খেলার জন্য নির্বাচিতও হয়েছিলেন।
ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা ক্লাইভ অ্যালেনও একসময় এনএফএল ইউরোপের লন্ডন মনাকর্সে খেলেছিলেন। কেইনের বিশ্বাস, পেনাল্টি নেওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁকে কিকার হওয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আমি পেনাল্টি নিই, আর সেখানে চাপ ও কৌশলের বিষয়টি অনেকটাই একই রকম। যদি আমি এটা করি, তাহলে অনুশীলনের দিক থেকে অন্য যেকোনো খেলার চেয়ে এই কাজটির সঙ্গে আমার মিল বেশি থাকবে।
‘তবে সব শীর্ষ পর্যায়ের খেলাধুলার ক্ষেত্রেই একটা বিষয় আছে। টেলিভিশনে দেখলে খেলোয়াড়দের সবকিছু খুব সহজ মনে হয়। তখন মনে হয়, আমিও পারব। কিন্তু বাস্তবতা সব সময় এমন নয়।
‘আমি যদি এটা করার সিদ্ধান্ত নিই, তাহলে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গেই নেব। হয়তো ছয় মাস থেকে এক বছর আগে থেকেই অনুশীলন শুরু করব।’
এখন পর্যন্ত কোনো এনএফএল দল তার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তা ছাড়া অদূর ভবিষ্যতে ফুটবল ছেড়ে অন্য খেলায় যাওয়ার কথাও ভাবছেন না কেইন।
তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে যদি আমি মেজর লিগ সকারে বা এ ধরনের কোথাও খেলি, তখন হয়তো দুই খেলাকে একসঙ্গে মিলিয়ে নেওয়ার সুযোগ হতে পারে, বিশেষ করে মৌসুমের সময়সূচির দিক থেকে।
‘তবে বিষয়টি এখনো আমার মাথার পেছনে আছে। কারণ এই মুহূর্তে আমি যত দিন সম্ভব এখানে খেলতে চাই।
‘আমার বয়স ৩৩ হয়ে গেছে। এই বয়সে অবসর বা ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবা সহজ। কিন্তু আমি গত দুই, পাঁচ কিংবা ১০ বছরের যতটুকু সময় বাকি আছে, তার প্রতিটি মুহূর্ত থেকে সর্বোচ্চটা নিতে চাই। আমি খেলা চালিয়ে যাব।’
জার্মানিতে সময়টা দারুণ উপভোগ করছেন কেইন। বায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গে নতুন চুক্তির ঘোষণাও খুব শিগগির আসতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। চুক্তির বাকি কিছু বিষয় চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
বুন্দেসলিগার চ্যাম্পিয়নদের হয়ে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন কেইন। আগামী মাসে ব্যালন ডি’অর জিতলে ২০০১ সালে মাইকেল ওভেনের পর ইংল্যান্ডের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই পুরস্কার জিতবেন তিনি।
কেইন বলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে এটি জিততে পারা অবিশ্বাস্য ব্যাপার হবে। জিততে পারলে আমি ভীষণ গর্বিত হব।
‘আমি মনে করি, অবশ্যই এটি জয়ের দৌড়ে আমি আছি। এখন সময়ই সব বলবে। ভোটাররা যাকে চান, তাকেই ভোট দেবেন।
‘অন্যরা যখন আমার সম্পর্কে কথা বলেন, তখন আমি বেশি গর্ব অনুভব করি। সতীর্থ, সাবেক খেলোয়াড় কিংবা অন্য কেউ যখন আমার অর্জনের প্রশংসা করেন, সেটাই আমাকে নিজের সম্পর্কে কথা বলার চেয়ে বেশি গর্বিত করে।’