হ্যান্ডকাপসহ পালিয়ে যাওয়া পিতা-পুত্র ১২ দিনেও গ্রেফতার হয়নি

প্রকাশিত: ৭:৩৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ২, ২০২০

হ্যান্ডকাপসহ পালিয়ে যাওয়া পিতা-পুত্র ১২ দিনেও গ্রেফতার হয়নি
Spread the love

Views

প্রতিনিধি/বাহুবলঃ

হবিগঞ্জের বাহুবলে পুলিশের হাত থেকে হ্যান্ডকাপসহ পালিয়ে যাওয়া পিতা-পুত্র ঘটনার ১২ দিনেও গ্রেফতার হয়নি। তবে পুলিশ এসল্ট মামলায় আসামী হয়ে জেলের ঘানি টানছে এলাকার নিরীহ লোকজন। ঘটনার সাথে কোনভাবেই জড়িত নয় এমন লোক গ্রেফতার হওয়ায় গ্রামবাসীর মাঝে বিরাজ করছে আতঙ্ক। অথচ ঘটনার সাথে প্রকৃত  জড়িতরা আজও অধরা।

জানা যায়, বাহুবল উপজেলার পূর্ব জয়পুর গ্রামের আব্দুল জাহির এর পরিবার ও তারই আপন ছোট ভাই কালামের স্ত্রী নাছিমা বেগমের সাথে পারিবারিক বিরোধ নিয়ে তিন সপ্তাহ পূর্বে মারামারি হয়। এ ব্যাপারে নাছিমা বেগম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।গত ২১ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকেলে ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কামাইছড়া ফাড়ির ইনচার্জ এসআই সেলিম হোসেন এএসআই শীতিল ঘোষ, কনষ্টেবল রাজীব পুরকায়স্থ ও মিজানুর রহমান সাথে নিয়ে আসামী আব্দুল জাহির (৪৫) ও তার ছেলে হৃদয় (২০) কে তাদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেন।এসময় আসামীদের স্বজনেরা ছাড়িয়ে নিতে পুলিশের কাছে ভীড় জমালে গ্রেফতারকৃত পিতা-পুত্র কৌশলে হ্যান্ডকাপসহ পালিয়ে যায়।এ ঘটনার সাথে আব্দুল জাহিরের স্ত্রী দিলারা, ভাগ্না নজরুল সহ ৫/৬ জন ছাড়া তাদের বাড়ি বা গ্রামের অন্য কোন লোক জড়িত নয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। এর কিছুক্ষণ পর অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে একই গ্রামের আব্রু মিয়ার স্ত্রী রিনা বেগম (৩৫), রফিক মিয়ার স্ত্রী অলিনা খাতুন (৩২), রফিক মিয়ার বোন জাহানারা খাতুন (২৮), আব্দুলজাহির এর ছেলে জীবন (১৫), আব্দুর রহিমের পুত্র মনসুর আলম (২০) ও মৃত ছেরাগ আলীর স্ত্রী শহিদা খাতুন (৫০) কে আটক করে।

আটককৃতদের ছাড়িয়ে নিতে তদবীর শুরু হলেপলাতক পিতা পুত্রকে স্বেচ্ছায় হাজির হতে সময় বেঁধে দেয়া হয়। ওই সময়ের মাঝে পলাতকরা হাজির বা গ্রেফতার না হওয়ায় বিষয়টি জঠিল হয়ে উঠে এবং পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে এসআই সেলিম বাদি হয়ে ২৬ জনের
নাম উল্লেখ করে সরকারি কাজে বাঁধা ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ এনে অজ্ঞাত দেড়শত লোককে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন।এ মামলায় প্রধান আসামী করা হয় একই গ্রামের আব্দুর রহিমের পুত্র নির্মাণ শ্রমিক মনসুর আলমকে। তার পরিবারের দাবী ঘটনার সময় মনসুর আলম মিরপুর বাজারের উদ্দেশ্যে রাস্তা দিয়ে পায়ে হেঁটে যাচ্ছিল এবং নিরাপদ দুরত্ব থেকে পুলিশের সাথে আব্দুল জাহিরের লোকদের ধস্তাধস্তির ঘটনা প্রত্যক্ষ করে।এক পর্যায়ে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং পরদিন তাকে প্রধান আসামি করে পৌনে দুইশত লোকের বিরুদ্ধে পুলিশ এসল্ট মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলায় অন্যান্যদের মত মনসুর আলমও এখন জেল হাজতের বাসিন্দা। অপরদিকে ঘটনার ২২ ঘন্টা পর হ্যান্ডকাপের ভাঙ্গা অংশ উদ্ধার হলেও পলাতক আব্দুল জাহির ও তার পুত্র হৃদয়সহ মুল হোতারা রয়েছে আজও অধরা।

বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আলমগীর হোসেন বলেন,ইতিমধ্যে খোয়া যাওয়া হাতকড়া উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ  কোন নিরপরাধ লোককে হয়রানী করছে না। পালিয়ে যাওয়া আসামীদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


Spread the love

Follow us

আর্কাইভ

January 2022
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31