সিলেট ২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩:৪৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদ্য সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, দলীয় সরকার ক্ষমতায় এলেবিভিন্ন পদে নিজেদের পছন্দের লোক বসাবে— এটাই স্বাভাবিক। এ নিয়ে আমার কোনো দুঃখ নেই। বরং আনন্দ নিয়েই আমি বিদায় নিচ্ছি। কারণ দায়িত্বে থাকাকালে যতোটা সম্ভব আমার কাজ আমি এগিয়ে নিয়ে গেছি। আমার অসমাপ্ত কাজ যেন নতুন চিফ প্রসিকিউটর সমাপ্ত করেন, সেটাই আমার প্রত্যাশা।
সোমবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে অব্যাহতি পাওয়ার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ট্রাইব্যুনাল থেকে তাজুল ইসলামকে বাদ দিয়ে অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলামকে চিফ প্রসিকিউটর নিযুক্ত করে সকালেই আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যায় অভিযুক্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির নেতা অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম। প্রজ্ঞাপন জারির পর ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমি প্রত্যেকের ওপরেই সন্তুষ্ট। আজকে একটা আনন্দ নিয়েই যাচ্ছি। যত দিন দায়িত্ব পালন করেছি, প্রত্যেককে আমাকে হেল্প করেছেন। আমি আশা করব, যিনি চিফ প্রসিকিউটর আসছেন, তিনি একই ধরনের সহযোগিতা পাবেন, তিনিও সফল হবেন। বাংলাদেশকে সবাই মিলে আমরা সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব।’
তাজুল ইসলাম বলেন, কোনো রাজনৈতিক সরকার, কোনো নির্বাচিত নতুন সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই রাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় তারা পছন্দের লোকজন বসাবে। এটা হচ্ছে স্বাভাবিক নিয়ম।
তিনি মনে করেন, এখানে ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে কোনো শঙ্কার কারণ নেই। নতুন যিনি দায়িত্বে আসছেন, তিনি বিচারপ্রার্থী নির্যাতনের শিকার ও বেদনাহত মানুষের কথা মাথায় রাখবেন। তাঁদের প্রতি সুবিচারের স্বার্থে এই বিচারপ্রক্রিয়া সামনে অগ্রসর হবে।
তাজুল ইসলাম বলেন, আমি নতুন চিফ প্রসিকিউটরকে স্বাগতম জানাই। তার প্রতি আমার শুভেচ্ছা থাকবে। আমি এখানে নিয়োজিত হয়েছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়। এখন নতুন সরকার এসেছে। তারা তাদের কাজের সুবিধার্থে পছন্দের লোককে এখানে বসিয়েছে। তাদের নিজস্ব পরিকল্পনা আছে। তারা নিশ্চয়ই সে অনুযায়ী এখানে লোক বসিয়েছে। তাঁর পক্ষ থেকে নতুন লোকদের জন্য সর্বাত্মক শুভকামনা, সহযোগিতা থাকবে।
নিজেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের কাছ থেকে আমাদেরকে প্রথমে বলা হয়েছিল যে, আমরা অ্যাজ ইট ইজ যেভাবে আছে, সেভাবেই চলবে। তারপর গতকালকে আমাকে ধারণাটা দিয়েছেন যে, সরকারের ইচ্ছা যে এখানে নতুন কাউকে রিপ্লেস করার। তখন আমি নিজের থেকে বলেছিলাম যে, তাহলে কি আপনারা চাচ্ছেন যে আমি পদত্যাগ করে চলে যাব? বলছেন না দরকার নাই। কারণ হচ্ছে, ন্যাচারাল প্রক্রিয়াতে রিপ্লেসড হবে। পদত্যাগ করলে এটা ভিন্ন বার্তা যেতে পারত।
সদ্য বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, আমার মূল পরিচয় আমি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। সুতরাং আমার জায়গা হচ্ছে আইন পেশা। আমি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে আমার স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফিরে যাব। আমি তো এক দিনের জন্য বেকার থাকছি না।…আপাতত আমার পুরোনো পেশায় ফিরে যাচ্ছি।
| M | T | W | T | F | S | S |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | 7 |
| 8 | 9 | 10 | 11 | 12 | 13 | 14 |
| 15 | 16 | 17 | 18 | 19 | 20 | 21 |
| 22 | 23 | 24 | 25 | 26 | 27 | 28 |
| 29 | 30 | |||||