সিলেট ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:৩৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২০
লন্ডন বাংলা ডেস্কঃঃ
ইউরোপের অন্য কোন দেশের তুলনায় করোনা ভাইরাস আক্রমণের শঙ্কায় সব চেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে লন্ডন। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিবছর ব্রিটেনে যে পরিমাণ চীনা দর্শনার্থী আসছেন তারা মূলত রাজধানী লন্ডন আসেন। তাই ওই মরণ ঘাতি সংক্রমণটি এই শহরটিতে ছড়িয়ে পাড়ার আশঙ্কার প্রথম সারিতে রয়েছে । এবং পরে তা ছড়িয়ে পড়তে পারে গোটা দেশে।
বিজ্ঞানীরা এমন সতর্ক বার্তা দিয়েছে ব্রিটিশ সরকারকে। প্রতি বছর জানুয়ারি থেকে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ,এই তিন মাসে, চীন থেকে প্রতি বছর ব্রিটেনে প্রায় দেড় লাখের বেশি পর্যটক ভ্রমণে আসেন। ফলে করোনা ভাইরাস নিয়ে বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমশ উদ্বেগ বাড়ছে বৃটেনেও ।
একজন প্রথম সারির ব্রিটিশ বিজ্ঞানী সতর্ক করে বলেছেন যে , করোনা ভাইরাসে (কভিড-১৯) বৃটেনে মারা যেতে পারেন ৪ লাখ মানুষ। এ বিষয়ে পূর্বাভাসকে অযৌক্তিক বলে মনে করেন না প্রফেসর নিল ফারগুসন নামের ওই বৃটিশ বিজ্ঞানী । তিনি ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডনের স্কুল অব পাবলিক হেলথে কর্মরত। প্রফেসর ফারগুসন বলেছেন, এই ভাইরাসটি নিয়ে আমি খুব আতঙ্কিত। যতগুলো কিলার ভাইরাস আছে তার মধ্যে এটি অন্যতম।
করোনা আতঙ্কে হিথ্রো বিমানবন্দরে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে সারা বৃটেনে ক্রমাগত উদ্বেগ বাড়ছে। তবে বৃটেনে যে ৪ লাখ মানুষ এতে মারা যাবেনই এমন পূর্বাভাস দিচ্ছেন না প্রফেসর ফারগুসন। তবে তিনি সতর্ক করছেন এই সংখ্যা অসম্ভব কিছু না। ডেইলি মেইল এক খবর দিয়ে বলছে, গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে, বৃটেনের শতকরা ৬০ ভাগ মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন। প্রফেসর ফারগুসনের মতে, আমাদের এখনকার হিসাব বলছে, আক্রান্তদের মধ্যে শতকরা এক ভাগ মানুষ মারা যেতে পারেন।
তিনি এই হিসাব এমন এক সময়ে প্রকাশ করলেন যখন বৃটিশ সরকার এটা নিয়ে কাজ করছে এবং আন্দাজ করছে যে, এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন বৃটেনের অর্ধেক মানুষ। তা কয়েক মাসের মধ্যে বৃটেনের প্রতিটি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর ফলে হাসপাতালগুলো পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খেতে পারে। কারণ, তখন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউতে চিকিৎসার ক্ষেত্রে কাকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে তা নির্ধারণ হয়ে পড়বে অনেক কঠিন। শনিবার দিবাগত রাতে প্রফেসর ফারগুসনকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, এতে কি ৪ লাখ মানুষ মারা যাবেন? তিনি জবাবে বলেন, জোর সম্ভাবনা আছে। কিভাবে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে সে সম্পর্কে আমরা জানি। আমরা আরও জানি বিগত দিনের মহামারিগুলোর ডাটা সম্পর্কে।