ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিরুদ্ধে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ, বহু আটক

প্রকাশিত: ৩:৪৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৪, ২০২৬

ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিরুদ্ধে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ, বহু আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: 

 

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবিতে হওয়া বিক্ষোভ থেকে বহু মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। বিক্ষোভকারীরা বলেন, ইসরায়েলকে দেওয়া অস্ত্র সহায়তা বন্ধ করতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সমর্থনও বন্ধ করা উচিত।

এই আন্দোলনে অংশ নেয় যুদ্ধবিরোধী সংগঠন ইহুদি ভয়েস ফর পিস। সংগঠনটির দাবি, প্রায় ৯০ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন সাবেক মার্কিন সেনাসদস্য ও তথ্য ফাঁসকারী চেলসি ম্যানিং।

 

তবে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, তারা একাধিক ব্যক্তিকে আটক করেছে, কিন্তু সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি।

প্রতিবাদের ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চ্যাক শুমার এবং তার সহকর্মী সিনেটর কিয়ের্স্টেন জিলিব্র্যান্ডের দপ্তরের কাছে জড়ো হয়েছেন। তারা ‘বোমা বন্ধ কর’, ‘হত্যা বন্ধ কর’, ‘ফিলিস্তিন মুক্ত কর’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। একই সঙ্গে গাজা, ইরান ও লেবাননের ওপর হামলার বিরুদ্ধেও তারা প্রতিবাদ জানান।

 

বিক্ষোভকারীরা আরও বলেন, ‘গাজাকে বাঁচতে দাও’, ‘ইরানকে বাঁচতে দাও’, ‘লেবাননকে বাঁচতে দাও’।

 

খবরে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা করে। এসব সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সময় থেকে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ দমনে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর মধ্যে ছিল বিদেশি শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের চেষ্টা, কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল বন্ধের হুমকি এবং অভিবাসীদের অনলাইন মন্তব্য যাচাইয়ের নির্দেশ। তবে এসব পদক্ষেপ আদালতের বাধার মুখে পড়ে।

 

নিউইয়র্ক শহর ২০২৪ সালেও ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু ছিল।

 

ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কঠোর সমালোচনার মুখে রয়েছে। এই যুদ্ধ হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটিয়েছে, ভয়াবহ খাদ্য সংকট তৈরি করেছে এবং গাজার প্রায় পুরো জনগোষ্ঠীকে বাস্তুচ্যুত করেছে। কিছু গবেষক ও জাতিসংঘ তদন্ত এই পরিস্থিতিকে গণহত্যার সঙ্গে তুলনা করেছে।

 

অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, তারা আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলায় প্রায় ১,২০০ মানুষ নিহত হয় এবং ২৫০ জনেরও বেশি মানুষকে জিম্মি করা হয়।

Spread the love

আর্কাইভ

May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031