সিলেট ২০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯:৪৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৭, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সিলেট কারাগারে বন্দি থাকা কোন কয়েদিকে মুক্তি দেয়নি সরকার। তবে দেশের অন্যান্য কারাগার থেকে এবার ৫জন কয়েদির সাজা মওকুফ করে মুক্তির আদেশ দিয়েছে সরকার। গত ১৫ মার্চ রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়।
এতে বলা হয়, সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিভিন্ন অপরাধে দণ্ডিত অর্থদণ্ডের বেশি সাজাভোগরত ৫ জন কয়েদির অবশিষ্ট কারাদণ্ড শর্তসাপেক্ষে মওকুফ করেছেন।
সিলেটের অতিরিক্ত উপ কারা মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) মো: আমিরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, এবার ঈদে সিলেট কারাগার থেকে বিশেষ বিবেচনায় সরকার কোন কয়েদিকে সাধারণ ক্ষমা করেনি। যার জন্য সিলেট কারাগার থেকে কোন দণ্ডপ্রাপ্ত কোন কয়েদি মুক্তি পাচ্ছেন না।
তারা হলেন- চাঁদপুর জেলা কারাগারের কয়েদি আকাশ গিরি প্রকাশ আকাশ দাস (২২), লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারের কয়েদি রবিউল হোসেন (২৫), রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের কয়েদি মো. জিকরুল হক ওরফে জিকু (৪৩), কয়েদি মো. নুরুজ্জামান (২৯) এবং কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের কয়েদি মো. আব্দুল করিমের (৫৬) অবশিষ্ট সাজা শর্তসাপেক্ষে মওকুফ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, অন্য কোনো কারণে তাদের আটক রাখার প্রয়োজন না থাকলে জরিমানাসহ প্রযোজ্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাদের অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঈদ উপলক্ষে কয়েদিদের মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি প্রধানত মানবিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পর্কিত। মূলত সমাজ ও পরিবারের সাথে পুনরায় মিলিত হওয়ার সুযোগ দিতে এবং অপরাধীদের সংশোধনের সুযোগ হিসেবে বিশেষ উৎসবে এই সাজা মওকুফ বা ক্ষমা প্রদর্শন করা হয়।
এছাড়া বাংলাদেশে সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সাজা মওকুফ বা স্থগিত করার ক্ষমতা রাখেন। এই ক্ষমতার বলেই বিশেষ উৎসবে শর্তসাপেক্ষে কয়েদিদের মুক্তি দেওয়া হয়।
মুক্তির ক্ষেত্রে কিছু সাধারণত শর্ত দেখা হয়। যেমন- কয়েদি তার সাজার একটি নির্দিষ্ট অংশ ইতোমধ্যে ভোগ করেছেন কি না; কারাগারে থাকাকালীন তার আচরণ এবং সংশোধন কেমন ছিল; অপরাধের ধরণ এবং সামাজিক নিরাপত্তার দিক বিবেচনা করা হয়।