সিলেট ২৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:২৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৯, ২০২৬
প্রতিনিধি / জগন্নাথপুর ::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে নদ-নদীতে নতুন পানির আগমন ঘটেছে। এতে একদিকে নতুন পানিতে মাছ শিকারের আনন্দে মেতেছেন উৎসুক শিকারীরা। আবার নদীতে পানি আসায় বোরো ফসলহানির আশঙ্কা তাড়া করে বেড়াচ্ছে কৃষককূলে। গত কয়েক দিনের টানা ভারি বৃষ্টিপাতে নদ-নদীতে নতুন পানির আগমন হয়েছে বলে পাউবোসহ স্থানীয়রা জানান।
১৮ মার্চ বুধবার ভোররাতে হঠাৎ করে জগন্নাথপুর পৌর শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া নলজুর নদীতে নতুন পানির আগমন ঘটে। এতে প্রথমেই শহীদ মিনার এলাকায় নির্মাণাধীন সেতুর পাশে বিকল্প পায়ে হেঁটে চলাচলের রাস্তাটি তলিয়ে যায়। ফলে এখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
সকাল হতেই নদীপাড়ে জাল সহ বিভিন্ন যন্ত্র নিয়ে অবস্থান নেন সৌখিন শিকারীরা। মাছ ধরার আনন্দে মেতে উঠেন আবাল বৃদ্ধ বণিতা। অপরদিকে-নদীতে পানির ¯্রােত দেখে আতঁকে উঠে কৃষকের বুক। নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ ঝুঁকিতে পড়ে যায়। অতিরিক্ত পানির চাপে বাঁধ ভেঙে ফসলহানির আশঙ্কা যেন কৃষকদের পিছু ছাড়ছে না। তার উপর এখনো বাঁধের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। দুর্বল বাঁধ কি প্রবল পানির ধাক্কা সামলাতে পারবে। এমন নানা প্রশ্ন ও শঙ্কা কৃষকদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে। এছাড়া আবহাওয়ার অবস্থাও ভালো নেই। প্রতিনিয়ত দিনে না হলে রাতে ঘুর্ণিঝড়ের সাথে ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষক হৃদয়ে কম্পন শুরু হয়েছে বলে কৃষক এনামুল হক, আছলম উল্লাহ, আমির উদ্দিন সহ অনেকে তাদের অভিমত ব্যক্ত করেন।
সরেজমিনে হাওর ঘুরে দেখা যায়, হাওরে উৎপাদিত বোরো ধানে সবেমাত্র থোড় আসতে শুরু করেছে। কোথাও আবার এখনো থোড় আসেনি। এমন অবস্থা হাওরে বোরো ধানের। এর মধ্যেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের হানা কৃষক মনে ভীতির সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাউবো জগন্নাথপুর উপজেলা কর্মকর্তা শেখ ফরিদ জানান, নদীতে নতুন পানি আসলেও ভয়ের কিছু নেই। ঘনঘন বৃষ্টিপাতে নদীতে পানি আসা স্বাভাবিক। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাঁধের কাজ প্রায় শেষ। তবে বৃষ্টি ও নদীতে পানি আসা নিয়ে আতঙ্ক বা ভয়ের কোন কারণ নেই।