সিলেট ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:২২ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উদ্বেগের মধ্যে সরকার বলছে, দেশে ঘাটতি নেই, তবে সংকট অনুভূত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজার অস্থিতিশীল হওয়ায় দেশে সরবরাহে চাপ পড়েছে। সরকারি হিসাবে, ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের যথেষ্ট মজুদ রয়েছে এবং বিপিসি ও জ্বালানি বিভাগ প্রতিদিন সরবরাহ পরিস্থিতি মনিটর করছে। তবু পেট্রলপাম্পে তেলের সীমিত সরবরাহ, কার্গো বিলম্ব এবং বাজারে অতিরিক্ত চাহিদার কারণে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে সংকট দেখা দিয়েছে।
সরকারি পদক্ষেপ হিসেবে চালু হচ্ছে ফুয়েল কার্ড ও কিউআর কোড ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট যানবাহনকে নির্ধারিত সময়ের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হবে। এ ছাড়া, অবৈধ মজুদ ও পাচারের তথ্য জানালে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক, ভিজিলেন্স টিম ও মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করে সরবরাহ চেইন সচল রাখার চেষ্টা করছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে রাশিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া,
মালয়েশিয়া, এঙ্গোলা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে তেল আমদানির পরিকল্পনা চলছে। সরকার বলছে, সরবরাহ ব্যবস্থায় মৌলিক সংকট নেই, মূল সমস্যা হচ্ছে জনগণের মধ্যে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রবণতা এবং অবৈধ মজুদদারদের কার্যক্রম। সরবরাহ নিশ্চিতে সরকারও নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে।
সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, মার্চ ও এপ্রিল মাসে ডিজেল সরবরাহ আগের তুলনায় বেড়েছে। বিশেষ করে কৃষি খাতে সেচ মৌসুমকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে কার্গো বিলম্ব, সীমিত বিতরণ এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ¦ালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশ। একদিকে জ¦ালানি তেল, এলএনজি সরবরাহ ঠিক রাখা অন্যদিকে আর্থিক চাপ নবনির্বাচিত সরকারকে ব্যাপক চ্যালেঞ্জর মধ্যে ফেলেছে। তবে সরকারকে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ মোবাবিলা করতে হচ্ছে, সেটা হলো অভ্যন্তরীণ মজুদদার এবং চোরাকারবারিদের মোকাবিলা করা। সরকার বলছে ২০২৫ সালের মার্চ এবং এপ্রিলে যে পরিমাণ জ¦ালানি তেল সরবরাহ করা হয়েছে চলতি বছরের একই সময়ে তার চেয়ে বেশি পরিমাণ জ¦ালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তবু বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর আসছে জ¦ালানি তেলের সংকট। এটা অস্বাভাবিক এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির পাঁয়তারা। জ¦ালানি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী গতকাল এক সংবাদ সম্মেলন সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, জ¦ালানি তেলের কোনো সংকট নাই। তবে মজুদদারদের প্রতিরোধে নানা ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যুদ্ধ যতদিন চলবে ততদিন সরকার জ¦ালানি তেলের পাচার, মজুদদারি প্রতিরোধে এবং তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সবাইকে তা মেনে চলতে হবে।
মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, বিশ্বে নজিরবিহীন জ্বালানিসংকট তৈরি হয়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে শ্রীলংকা, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, আফগানিস্তানে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। অবৈধ মজুদদারি, ভীতি থেকে বাড়তি কেনার কারণে কিছুটা সংকট তৈরি হয়েছে। তবে মার্চে সরবরাহ ব্যাহত হয়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ বেশি সরবরাহ করা হয়েছে, বিশেষ করে ঈদের সময়। বিপিসির একার পক্ষে সংকট সামলানো সম্ভব নয়। তাই জেলা প্রশাসনকে যুক্ত করা হয়েছে। ভিজিলেন্স দল গঠন করা হয়েছে। গত রবিবার সব জেলা পুলিশ সুপারদের সঙ্গেও সভা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসার নিয়োগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সাশ্রয়ের কথা বলা হচ্ছে। এ কর্মকর্তা বলেন, অবৈধ মজুদের প্রবণতা বন্ধ হলে সংকট সমাধান করা যাবে।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন পেট্রলপাম্পে জ¦ালানি তেলের ঘাটতি দেখা যায়। সাধারণ মানুষও আগের চেয়ে বেশি জ¦ালানি তেল সংগ্রহ শুরু করে। অধিকাংশ জায়গায় জ¦ালানি তেল না পাওয়ার বিষয়ে গ্রাহকরা এবং পেট্রল পাম্পের মালিকরা অভিযোগ করেন। সরকার কয়েকদিন রেশনিং করে জ¦ালানি তেল সরবরাহ করলেও পরে রেশিনিং তুলে দেওয়া হয়।
জ¦ালানি তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে নানা ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা। জ¦ালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রাশিয়া থেকে ছয় লাখ টন জ্বালানি তেল কিনতে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের অনুরোধ জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। তবে সেই তেল পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার রয়েছে। শুধু রাশিয়া নয় বৈশ্বিক সংকটের শুরু হওয়ার পর জ্বালানি তেল সংগ্রহের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করে বাংলাদেশ।
এ ছাড়া ভারতের সঙ্গে আমাদের চুক্তি আছে। ভারত থেকে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৬০ হাজার মেট্রিক টন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু আমরা পেয়েছিলাম মাত্র পাঁচ হাজার মেট্রিক টন। ভবিষ্যতে আরও তেল আসবে। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়া থেকে ৬০ হাজার মেট্রিক টনের দুটি কার্গো শিগগির পাব বলে প্রত্যাশা করছি। এর বাইরে আমরা বিকল্প সোর্সগুলো কী হতে পারে সেটা এক্সপ্লোর করছি প্রতিনিয়ত। তিনি বলেন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, এঙ্গোলা, অস্ট্রেলিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা অস্ট্রেলিয়া, এঙ্গোলা থেকে একটা করে এলএনজি পেয়েছি। এ ছাড়া ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনা হয়েছে এবং এ বিষয়ে চিঠিও দেওয়া হয়েছে।
সংকট সামলাতে আসছে ‘ফুয়েল পাস’, কিউআর কোডে মিলবে নির্ধারিত তেল
চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে সরবরাহ ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ‘ফুয়েল পাস’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কিউআর কোডভিত্তিক এই ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট যানবাহনকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। জ্বালানি তেলের চাহিদা নিয়ন্ত্রণ এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেলকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে, কারণ অকটেনভিত্তিক এই খাতে চাহিদা তুলনামূলক বেশি এবং সাম্প্রতিক সময়ে প্যানিক বায়িংয়ের প্রবণতাও বেশি দেখা গেছে।
মজুদের তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পুরস্কার
জ¦ালানি তেলের মজুদ ঠেকাতে ও বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অবৈধ মজুদ ও পাচার রোধে সঠিক তথ্য সরবরাহকারীদের জন্য সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে এবং মাঠপর্যায়ে কার্যকর নজরদারি জোরদার করতে জনসম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবেই তথ্যদাতাদের আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা যদি অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ কিংবা পাচারের নির্ভরযোগ্য তথ্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে তুলে দেয়, তবে যাচাই শেষে তথ্যদাতাকে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হবে।
এদিকে, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং জ্বালানি বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। প্রতিদিন তেল সরবরাহ ও মজুদ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক চলমান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশেও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও সরকার বলছে দেশে এখনও পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং সরবরাহ চেইন সচল আছে। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, কার্গো বিলম্ব, সীমিত বিতরণ এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। যুদ্ধের প্রভাব প্রতিদিনই বাড়ছে, আর বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় সরবরাহে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রণালি দিয়েই প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি পরিবাহিত হয়।
বাংলাদেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল, যেখানে এখন পর্যন্ত কোনো ঘাটতি নেই। বর্তমানে দেশে প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলের উদ্বৃত্ত মজুদ রয়েছে। মার্চ মাসে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ বজায় রাখা হয়েছে এবং ঈদকে কেন্দ্র করে কিছু ক্ষেত্রে সরবরাহ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সরকারি হিসাবে, ১৯ মার্চ পর্যন্ত ডিজেলের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় প্রায় ৮০০ মেট্রিক টন বেশি ছিল। অকটেনের ক্ষেত্রে ২২৫ মেট্রিক টন বেশি এবং পেট্রলের ক্ষেত্রে ২৯ মেট্রিক টন কম সরবরাহ করা হয়েছে। এসব তথ্য তুলে ধরে জ্বালানি বিভাগ দাবি করছে, সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো মৌলিক সংকট নেই। তবে বাস্তব চিত্র কিছুটা ভিন্ন। রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে আগের তুলনায় তেল সরবরাহ কমে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ৯ থেকে ১০ হাজার লিটার দেওয়া হতো, এখন অনেক ক্ষেত্রে তা কমে ৪ থেকে ৫ হাজার লিটারে নেমে এসেছে। কোনো কোনো পাম্প দিনে একটি ট্যাংকার পাচ্ছে, আবার কোথাও সেটিও মিলছে না।
তবে সরবরাহে চাপের একটি বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে কার্গো বিলম্ব। জ¦ালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মার্চ মাসে দুটি অকটেন কার্গো ১০ হাজার ও ২৫ হাজার মেট্রিক টন নির্ধারিত সময়ে দেশে পৌঁছায়নি। পাশাপাশি প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টনের পাঁচটি ডিজেল কার্গো স্থগিত রয়েছে। এ ছাড়া আরও প্রায় ৩৫ হাজার মেট্রিক টনের সরবরাহ বিলম্বিত হয়েছে। এই বিলম্বগুলোই বাজারে চাপ তৈরির অন্যতম কারণ। সরকার বিকল্প ব্যবস্থাও বিবেচনা করেছে। এর মধ্যে একটি ছিল প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে এক বন্দর থেকে অন্য বন্দরে ক্রুড অয়েল পরিবহন। কিন্তু অতিরিক্ত বিলিং চার্জ ও উচ্চ ব্যয়ের কারণে এই প্রস্তাবকে অর্থনৈতিকভাবে অযোগ্য বিবেচনা করে তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
এদিকে সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারফরমেন্স গ্যারান্টির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার নিজে এ ধরনের গ্যারান্টি দিতে পারবে না। তবে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টনের একটি সরবরাহের ক্ষেত্রে দুটি গ্যারান্টি প্রক্রিয়াধীন থাকতে পারে। জ¦ালানি বিভাগ থেকে সামনের দিনগুলোর পরিকল্পনা তুলে ধরে বলা হয়, ৩০ মার্চ ও ৩ এপ্রিল আসা দুটি কার্গো থেকে প্রায় ৫৪ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন জ্বালানি দেশে পৌঁছাবে। এ ছাড়া এনআরএল থেকে ৭ হাজার মেট্রিক টন এবং মালয়েশিয়ার পিএসপি, ইউনিপ্যাকসহ বিভিন্ন উৎস থেকে এপ্রিল মাসে মোট প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টনের বেশি জ্বালানি যোগ হবে। তবে মে ও জুন মাসের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি জ্বালানি বিভাগ। তাদের মতে, যুদ্ধের গতিপ্রকৃতির ওপরই ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনিক তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে। প্রতিদিন জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করা হচ্ছে। ভিজিল্যান্স টিম, ট্যাগ অফিসার এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ডিপো ও ফিলিং স্টেশন পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যে অভিযানে প্রায় ২ লাখ ৮৬ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন জ্বালানি উদ্ধার করা হয়েছে। ১ হাজার ৫৩টি মামলায় ১৬ জনকে কারাদণ্ড এবং প্রায় ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সেচ মৌসুম বিবেচনায় কৃষি খাতে ডিজেল সরবরাহকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের তালিকার মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সরাসরি জ্বালানি পৌঁছানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, সরকার বলছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে এবং সরবরাহ চেইন সচল রয়েছে। তবে কার্গো বিলম্ব, সীমিত সরবরাহ এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা এই তিনটি বিষয় এখন জ্বালানি খাতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।