সিলেট ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৫:০৯ অপরাহ্ণ, মে ৫, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে ছড়িয়েছে উত্তেজনা। ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে পাঁচ সাধারণ নাগরিককে হত্যা করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ইরানের দাবি, মার্কিন বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি-এর নৌযান নয়, বরং যাত্রীবাহী ছোট নৌকায় হামলা চালিয়েছে। এতে দুটি নৌকা ক্ষতিগ্রস্ত এবং পাঁচজন সাধারণ যাত্রী নিহত হয়েছেন।
তবে এই দাবি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার-এর বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার মার্কিন মিশনে বাধা দানকারী ছয়টি আইআরজিসি নৌযান ধ্বংস করেছে মার্কিন বাহিনী।
পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ধ্বংস করা নৌযানের সংখ্যা সাতটি বলে উল্লেখ করেন।
হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার মার্কিন মিশন ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ গত ৮ এপ্রিল হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতিকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে এবং আবারও পূর্ণাঙ্গ সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এক সামরিক কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, মার্কিন দাবির পর তদন্ত শুরু করা হয়। সেই তদন্ত অনুযায়ী আইআরজিসি-র কোনো নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি; বরং ওমান উপকূলের খাসাব থেকে ইরানের দিকে যাওয়া সাধারণ যাত্রীবাহী দুটি নৌকায় হামলা হয়েছে।
ইরান এই ঘটনাকে ‘অপরাধ’ আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে এর জন্য জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে রেখেছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি সরবরাহ এই পথ দিয়ে হয়, ফলে এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। তেলের পাশাপাশি সারসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা ও খাদ্য সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে ইরান হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় হওয়া ক্ষতির ক্ষতিপূরণ হিসেবে ট্রানজিট ফি আদায়ের অবস্থানে অনড় রয়েছে।