মধ্যপ্রাচ্যে ৮৬০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশিত: ৪:০৫ অপরাহ্ণ, মে ৩, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ৮৬০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::

 

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোকে ৮৬০ কোটি মার্কিন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জরুরি পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে কংগ্রেসের আগাম পর্যালোচনা ছাড়াই এই অস্ত্র স্থানান্তর দ্রুত কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেন।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে। এতে তাদের যুক্তরাষ্ট্র-নির্মিত অস্ত্রের মজুদ কমে গেছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চাপের মুখে পড়েছে।

 

এই অস্ত্র বিক্রির মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলের জন্য প্রায় ৯৯ কোটি ২০ লাখ ডলারের নির্ভুল লক্ষ্যভেদী রকেট ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম। কুয়েতের জন্য ২৫০ কোটি ডলারের যুদ্ধ কমান্ড ব্যবস্থা কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

কাতার প্রায় ৫০০ কোটি ডলারের বিনিময়ে একই ধরনের নির্ভুল লক্ষ্যভেদী রকেট ব্যবস্থা এবং প্যাট্রিয়ট আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পুনরায় সরঞ্জাম সংগ্রহ করবে।

 

সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ১৪ কোটি ৮০ লাখ ডলারের একটি নির্ভুল লক্ষ্যভেদী রকেট ব্যবস্থা কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি পরিস্থিতির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে কংগ্রেসের পর্যালোচনা প্রক্রিয়া এড়িয়ে এসব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

 

প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা আকাশে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রজেক্টাইল প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয় এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিগুলোর একটি।

 

নির্ভুল লক্ষ্যভেদী রকেট ব্যবস্থা মূলত অনিয়ন্ত্রিত রকেটকে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা দেয়।

 

কুয়েতের যুদ্ধ কমান্ড ব্যবস্থাগুলো তাদের রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা শনাক্তকরণ ক্ষমতা আরও উন্নত করবে বলে জানানো হয়েছে।

 

এর আগে মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও জর্ডানের জন্য ১৬৫০ কোটি ডলারের পৃথক অস্ত্র বিক্রি অনুমোদন করেছিল। এতে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, রাডার ব্যবস্থা এবং যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।

 

এদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ব্যবহৃত হওয়ায় তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

একটি গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের আগে অস্ত্র মজুদ পর্যাপ্ত ছিল না এবং বর্তমান পরিস্থিতি ভবিষ্যৎ বড় সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতাকে সীমিত করতে পারে।

Spread the love

আর্কাইভ

May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031