কোয়ারেন্টাইনে যেমন কাটছে ৩ আইনজীবীর সময়

প্রকাশিত: ৭:০৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১২, ২০২০

কোয়ারেন্টাইনে যেমন কাটছে ৩ আইনজীবীর সময়

লন্ডন বাংলা ডেস্কঃঃ

আইনজিবীদরে এখন আর সকাল-সন্ধ্যা কোর্টে থাকতে হয় না।  চেম্বারেও ভিড় নেই  দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিচারপ্রার্থীদের। করোনাভাইরাস  পাল্টে দিয়েছে নিত্যদিনের রুটিন। এ ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে মানুষ হোম কোয়ারেন্টাইন বা ঘরে অবস্থান করছেন।

 

সারা দিন কোর্ট, চেম্বার, বিচারপ্রার্থীদের নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটানো আইনজীবীর হাতেও এখন অনেক সময়। এই সময়ে  কী করছেন, কীভাবে সময়কে কাজে লাগাচ্ছেন তা নিয়ে কথা বলেছেন সুপ্রিম কোর্টের তিন বিশিষ্ট আইনজীবী।

 

অ্যাডভোকেট মো. মোতাহার হোসেন সাজু। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সহসম্পাদক ও আওয়ামীপন্থী পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক। ঢাকা শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিষদের সদস্যও তিনি।

 

মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, ‘গত ২২ মার্চ থেকে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছি। বাসায় থেকে আইনজীবী বন্ধু, রাজনৈতিক সহকর্মী, আত্মীয় স্বজনের সব সময় খোঁজ খবর রাখছি। করোনাভাইরাস নিয়ে পজিটিভ খবরগুলো পরিচিতজনদের কাছে শেয়ার করে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। এর মধ্যে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ আইন  ভালে করে পড়ে জেনেছি রোগী সেবা না পেলে কী ধরণের ব্যবস্থা রয়েছে। ডাক্তারদের অবহেলার শাস্তির বিষয় নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কথা বলেছি, ফেসবুকে মানুষকে সচেতন করে যাচ্ছি। পরিচিতজনদের ফোন করে গরম পানি, গরম চা খেতে বলি। বার বার সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার পরামর্শ দেই।

আপনি তো জানেন, আমি শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থা পরিষদের সদস্য। কয়েকদিন আগে শিশু স্বাস্থ্য গবেষণা ইনিস্টিউটে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে মিটিং করেছি। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে নিয়মিত কথা বলছি।

 

নিয়মিত বই পড়ছি। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী,কারাগারের রোজনামচা, বাংলাদেশ : রক্তের ঋণ, Bangabandhu Regime Major Events, Secret Documents of Intelligence Branch on Father of the nation of Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman ও বঙ্গবন্ধুর লেখা‘ আমার দেখা নয়া চীন’ পড়া শেষ করেছি। এছাড়া, বিভিন্ন  দেশের করোনাভাইরাসের সংক্রামণ ও মহামারি নিয়ে আর্টিকেল পড়ে সময় কেটে যাচ্ছে।

 

পরামর্শের বিষয়ে অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, ‘নিজে নিরাপদ থাকুন, আপনজনকে নিরাপদ রাখুন। এটাই পরামর্শ।

 

ড. মো. বশির উল্লাহ। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল। রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তা হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

হোম কোয়ারেন্টাইনের দিনগুলো সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত কোর্ট অঙ্গনেই সময় কেটে যেতো।  এখন সময় কাটছে বই পড়ে।  আইনের বিভিন্ন বই পড়ছি। এছাড়া, বিভিন্ন উপন্যাস, রচনাবলী পড়ছি। এর মধ্যে কবি জীবনানন্দ দাশের রচনাবলী, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছবির দেশে কবিতার দেশে, বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের ‘বাংলা ভাষার সংগ্রাম এখনও অসমাপ্ত, হরেক রকমের বই পড়েছি।  অনলাইনে পত্রিকা পড়ে, টিভি দেখে প্রতিনিয়ত করোনার আপডেট খবর রাখছি। ফেসবুকে আত্মীয় স্বজন-বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করে দিনের বড় একটা সময় কাটে। নিয়মিত নামাজ পড়ছি, আল্লাহকে স্বরণ করছি।

 

ড. মো. বশির উল্লাহ বলেন, ‘নিজের অবস্থান থেকে গরিব আত্মীয় স্বজনকে সাহায্য সহযোগিতা করছি। আমি বলব, প্রত্যেকে নিজের অবস্থান থেকে মানুষকে সহযোগিতা করুন।

 

অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০ হাজার শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণসহ চাকরিসংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায় আইনি লড়াইয়ে জয়লাভ করে সারা দেশে পরিচিতি পেয়েছেন। ব্যস্ত এ আইনজীবী তিন সপ্তাহ ধরে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। তার সময় কাটছে মূলত আইনের বই পড়ে।

 

হোম কোয়ারেন্টাইনের দিনগুলো নিয়ে ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া বলেন, ‘সময়কে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি। সংবিধান বিশেষজ্ঞ মাহমুদুল ইসলামের বাংলাদেশের সাংবিধানিক আইন বইটি ভাল করে পড়ছি। আপনি তো জানেন, আমি চাকরি সংক্রান্ত মামলা বেশি করি। এসব মামলার দেশি বিদেশি জাজমেন্ট, রেফারেন্সগুলো পড়ছি। কোরআন তিলাওয়াত, নামাজ পড়ছি। পরিবারকে সময় দিচ্ছি। সকাল-বিকেল নিয়মিত শরীর চর্চা করছি।

 

 

হোম কোয়ারেন্টাইনে থেকেই এলাকার মানুষের আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছি। ইতিমধ্যেই আমার এলাকার চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন মিয়ার মাধ্যমে অসচ্ছল পরিবারের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী বিতরণ করেছি। একাজ এখনও চলমান রয়েছে।

 

আরেকটি কথা, প্রধানমন্ত্রী দেশের এই ক্লান্তিকালে খাদ্য শস্য উৎপাদনের ওপর জোর দিয়েছেন। সেই রেফারেন্সে আমি আমার এলাকার কৃষকসহ সারা দেশে আমার যে ক্লায়েন্ট রয়েছে তাদেরকে ফোন দিয়ে  চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করছি। যেন খাদ্য ঘাটতি না হয়।

 

পরামর্শের বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট ছিদ্দিক উল্লাহ বলেন, ‘আমি নিজে ঘরে থাকি, আপনিও ঘরে থাকুন। নিজে বাঁচুন, কাছের মানুষদের নিরাপদে রাখুন।’

Spread the love