সিলেট ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯:৩৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
দীর্ঘ পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর আগামীকাল শনিবার থেকে অবশেষে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হচ্ছে। ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বৈঠকে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের আশ্বাস পাওয়ার পর অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। ফলে আগামীকাল থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুরোদমে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ভারতের বালুরঘাটে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে হিলি স্থলবন্দরের অবকাঠামোগত সমস্যা, বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা এবং ব্যবসায়ীদের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলে ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে গত ৩০ আগস্ট থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে সব ধরনের পণ্য রপ্তানি বন্ধ করে দেন ভারতের ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকেও পণ্য আমদানি বন্ধ রাখা হয়। এতে দুই দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। কর্মহীন হয়ে পড়েন দুই দেশের শত শত শ্রমিক।
ভারতের হিলি এক্সপোর্টার অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি বিকাশ মণ্ডল বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে বালুরঘাটে দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে হিলি স্থলবন্দরের অবকাঠামোসহ বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, গত বুধবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বালুরঘাট সফরে এসে প্রশাসনিক বৈঠক করেন। ওই সময় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে হিলি স্থলবন্দর আধুনিকায়ন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সহজীকরণসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার বিষয় তুলে ধরা হয়। মুখ্যমন্ত্রী জেলা প্রশাসনকে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের বৈঠক হয়েছে।
বিকাশ মণ্ডল আরও বলেন, শুক্রবার বাংলাদেশে সাপ্তাহিক ছুটির দিন। তাই আগামীকাল শনিবার থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে।
বাংলাদেশের হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর ইসলাম মণ্ডল বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে ভারতের বালুরঘাটে জেলা প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের বৈঠকের বিষয়টি তারা শুনেছেন। তবে বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের লিখিতভাবে জানানো হয়নি।
তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের দাবিতে ভারতের ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট যৌক্তিক ছিল। বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ও জটিলতার কারণে হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্য কমতে কমতে প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। এতে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
এদিকে ভারতের হিলি এক্সপোর্টার অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের একাধিক নেতা অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের তুলনায় হিলি স্থলবন্দর বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে শত শত ব্যবসায়ী নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। অথচ অন্যান্য স্থলবন্দর দিয়ে স্বাভাবিকভাবে বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছে।
তাদের অভিযোগ, অন্যান্য স্থলবন্দরের তুলনায় শুধু হিলি দিয়ে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে নানা প্রশাসনিক নিয়মকানুন ও হস্তক্ষেপের কারণে ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়ছেন। বিষয়গুলো সমাধানের জন্য স্থানীয় প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার অনুরোধ জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বাণিজ্যিক স্বার্থ ও বৈষম্যের প্রতিবাদে বাধ্য হয়ে গত ৩০ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে সব ধরনের পণ্য রপ্তানি বন্ধের কর্মসূচি দেন তারা। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকেও পণ্য আমদানি বন্ধ রাখা হয়।
প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের বৈঠকের পর ধর্মঘট প্রত্যাহার হওয়ায় শনিবার থেকে হিলি স্থলবন্দরে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।