সিলেট ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:১০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, জাতিকে এগিয়ে নিতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে জ্ঞানভিত্তিক রাজনীতি অপরিহার্য। শুধু জিন্দাবাদ স্লোগানে আগামীর প্রজন্মকে আমরা যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে পারব না। এর জন্য প্রয়োজন জ্ঞানের বিকাশ। আগামীর বিশ্বে বিএনপিকে এগিয়ে নিতেও প্রয়োজন জ্ঞানের বিকাশ।
আজ শুক্রবার বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ও জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থা আয়োজিত ‘জিয়া স্মৃতি বইমেলা-২০২৬’-এর দ্বিতীয় দিনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী।
জিয়া স্মৃতি বইমেলা আয়োজকদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, এই বইমেলাটি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির জন্য নিঃসন্দেহে একটি মাইলফলক হিসেবে থাকবে।
মো. আসাদুজ্জামান আরও বলেন, বাংলাদেশের যা কিছু শ্রেষ্ঠ অর্জন তার সবই শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের হাত ধরেই এসেছে। ১৯৭১ সালে গোটা জাতি যখন দ্বিধাবিভক্ত ছিল, তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব যখন স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে গড়িমসি করেছিল, গোটা বাংলাদেশের মানুষ যখন স্বাধীনতামুখী ছিল তখন জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে এ দেশের মানুষকে মুক্তির পথ দেখিয়েছেন।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের পর জিয়াউর রহমান যখন ব্যারাকে ফিরে গিয়েছিলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সময়কালে বাংলাদেশে রক্তের হোলিখেলা চলেছে। জাসদের ৩০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল। সে সময় কেরানীগঞ্জের সিদ্দিক মাস্টার বাংলাদেশে প্রথম গুমের শিকার হয়েছিলেন। কারণ তিনি শেখ মুজিবের দর্শন পছন্দ করতেন না। বাংলাদেশের প্রথম বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন সিরাজ শিকদার। সে বিষয়ে শেখ মুজিব পার্লামেন্ট উচ্চকণ্ঠে বলেছিলেন, ‘কোথায় আজ সিরাজ শিকদার’। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সময়ে ৩০ হাজার তরতাজা প্রাণকে জীবন দিতে হয়েছিল।
আইনমন্ত্রী বলেন, খন্দকার মোশতাকের ষড়যন্ত্রে শেখ মুজিব নিহত হয়েছিলেন। সে সময় সেনাবাহিনীর মধ্যে ক্যু-পাল্টা ক্যু শুরু হয়। উত্তাল সেই দিনগুলোতে যখন এ দেশের মানুষ আবারও দিশেহারা হয়ে যায় তখন জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের মানুষকে রক্ষা করেছিলেন। এটাই জিয়াউর রহমানের রাজনীতি।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান দায়িত্ব নিয়ে এ দেশের গণতন্ত্রের দ্বার উন্মোচন করেছেন। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল। কিন্তু জিয়াউর রহমান এসে সকল দ্বার উন্মোচন করে দিয়েছেন। মানুষের জীবনে শান্তি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিকেরা জীবন দিয়েছেন। বিএনপির ৭০০-এর বেশি নেতাকর্মী গুম হয়েছে। ৬০ লাখের বেশি বিএনপি নেতাকর্মীর নামে মামলা করা হয়েছিল। গত জুলাই আন্দোলনে এই প্রজন্মের ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে পঙ্গু করা হয়েছে। শহিদ জিয়া যে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন সে স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখতে ছাত্রদলকে গড়ে তোলা দরকার।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমাদের জাতিসত্তার রূপকার। জিয়াউর রহমান প্রকৃত অর্থে গত ৫৫ বছরে বাংলাদেশের একমাত্র স্টেটসম্যান। স্বাধীনতা-উত্তর শ্বাপদসংকুল রাজনৈতিক, সামরিক পথপরিক্রমা, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে দিশাহীন জাতিকে দেখিয়েছিলেন আলোর পথ। জিয়াউর রহমান ছিলেন সত্যিকার অর্থেই আমাদের বাতিঘর। মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে দেশকে এগিয়ে নিয়েছেন কৃষি, শিল্প, মানবসম্পদ উন্নয়নে স্বনির্ভরতার দিকে। দেশে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ।’
বাসস সম্পাদক বলেন, জিয়াউর রহমান এ দেশে একটি সাংস্কৃতিক জাগরণ চেয়েছিলেন। সাংস্কৃতিক বিকাশের জন্য এ দেশে যা কিছু প্রয়োজন তার সবই করেছেন তিনি।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘জিয়াউর রহমান আধুনিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্থপতি। জিয়াউর রহমানকে যে বিশেষণেই বিশেষায়িত করা হোক না কেন, তাতে তার যোগ্যতার পূর্ণ প্রকাশ ঘটে না, কারণ তার কীর্তি বিপুল ও বিশাল। জাতির প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে তিনি বারবার দাঁড়িয়েছেন নির্ভয়ে মাথা উঁচু করে। অসীম সাহসিকতা, দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা ও দেশপ্রেম নিয়ে তিনি সময়ের প্রয়োজনে আলোর দ্যুতি নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। বিপর্যস্ত জাতিকে রক্ষা করেছেন সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে। আমাদের অহংকারের অধ্যায়কে তিনি আলোকিত ও সমৃদ্ধ করেছেন। অল্পদিনের জীবনে বিশাল তাঁর অর্জন। মাত্র ৪৫ বছর বয়সে তিনি কর্মগুণে জ্যোতির্ময় হতে পেরেছিলেন; যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।’
জিয়াউর রহমান এ দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে ত্রিশ লাখ শহিদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পেলেও গণতন্ত্র পায়নি। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে দেশের সব রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করে গণবিমুখ একদলীয় বাকশালী ব্যবস্থা চালু করেন। সে দিনগুলোতে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা, রাজনৈতিক মতপ্রকাশের কোনো স্বাধীনতা ছিল না। গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল। একদল, এক ব্যক্তির শাসনে গোটা দেশ এক বন্দিশালায় পরিণত হয়েছিল। জনগণ গণতন্ত্রের স্বাদ উপভোগ করতে পারেননি। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর গণতন্ত্রের দরজা উন্মুক্ত করে দেন। তিনি উপলব্ধি করেন যে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে অবশ্যই মত ও পথের শত ফুল ফুটতে দিতে হবে। এই লক্ষ্য ও মানসেই তিনি ১৯৭৬ সালে ‘রাজনৈতিক দল বিধি ১৯৭৬’ জারি করেন। এর ফলে আওয়ামী লীগসহ দেশে সব রাজনৈতিক দলের পুনরুজ্জীবনের সুযোগ ঘটে।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, জিয়া রাজনীতিকে প্রাসাদে বন্দি না করে সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। জিয়ার প্রতি জনগণের ভালোবাসার কারণে বিএনপি শুরু থেকেই জনপ্রিয়তা পায়। পরবর্তীতে বিএনপির গণমুখী কর্মকাণ্ডের কারণে দলটি মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়। তাই জনগণ যখনই ভোট দিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পেয়েছে, তখনই বিএনপিকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছে।
জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান মিন্টুর সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রমুখ।