সিলেট ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩:৪৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
স্পোর্টস ডেস্ক::
২০২৬ এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটে স্বর্ণের পদক ধরে রেখেছে ভারত। ২০২৩ সালের ফাইনালের পুনরাবৃত্তিতে শ্রীলংকাকে ১৪৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে ভারত। কোরোগি স্পোর্টস পার্কে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ব্যাট হাতে ঝড় তুলে জয়ের ভিত গড়ে দেয় ভারত।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২১৬ রান সংগ্রহ করে ভারত। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক ইনিংসে ভারতের সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড গড়ে ১৩টি ছক্কা হাঁকায় তারা। শ্রীলংকার বিপক্ষেই গত ডিসেম্বরে তিরুবনন্তপুরমে করা ২২১ রানের নিজেদের সর্বোচ্চ সংগ্রহের চেয়ে এবার মাত্র পাঁচ রান কম করে ভারত।
ভারতের বড় সংগ্রহের পেছনে মূল অবদান স্মৃতি মান্ধানা, শেফালি ভার্মা ও রিচা ঘোষের। মান্ধানা ৪৫ বলে ৭৯, শেফালি ২৯ বলে ৪৮ এবং রিচা ২২ বলে অপরাজিত ৪৯ রান করেন। প্রথম ১০ ওভারেই মান্ধানা ও শেফালি মিলে ৯৯ রান যোগ করেন। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন মান্ধানা। সুগন্ধিকা কুমারিকে টানা চাপে রেখে মাত্র ৩০ বলে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ৩৭তম অর্ধশতক তুলে নেন তিনি।
সেমিফাইনালে শতক হাঁকিয়ে আসা শেফালিও ছিলেন সমান উজ্জ্বল। তিনটি ছক্কা ও তিনটি চারের সাহায্যে দ্রুত রান তুলছিলেন তিনি। তবে চামুদি প্রবোদার বলে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শেফালি।
ওপেনিং জুটির দারুণ শুরুর পর তিন নম্বরে নামেন ভারতীয় অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর। কিছুটা সময় নিয়ে ব্যাটিংয়ের সঙ্গে মানিয়ে নেন তিনি। প্রথম ১৩ বলে মাত্র ১০ রান করার পর দুটি বাউন্ডারি হাঁকান হারমানপ্রীত। তবে ১৯ রানে লং অফে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
অন্য প্রান্তে অবশ্য নিজের স্বাভাবিক ছন্দ ধরে রাখেন মান্ধানা। শতকের দিকে এগোচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বড় শট খেলতে গিয়ে ডিপে ক্যাচ দিয়ে ৭৯ রানেই থামতে হয় তাঁকে।
এরপর ভারতকে আরও বড় সংগ্রহ এনে দেন রিচা ঘোষ। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে খুব বেশি আলোচনায় না থাকলেও ফাইনালে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন তিনি। ছয়টি চার ও তিনটি ছক্কায় মাত্র ২২ বলে অপরাজিত ৪৯ রান করেন রিচা। ইনিংসের শেষ ওভারে ২৫ রান তুলে ভারতকে দুই শ পেরিয়ে নিয়ে যান তিনি।
ফলে সেমিফাইনালে নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে ফাইনালে ওঠা শ্রীলঙ্কার সামনে জয়ের জন্য ২১৭ রানের বিশাল লক্ষ্য দাঁড়ায়। কিন্তু শুরু থেকেই ভারতীয় বোলারদের সামনে অসহায় হয়ে পড়ে শ্রীলঙ্কা।
ওপেনার চামারি আতাপাত্তু ২৯ রান করলেও তাঁর সঙ্গে কেউ বড় জুটি গড়তে পারেননি। ভারতের স্পিন আক্রমণের সামনে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে শ্রীলঙ্কা। শেষ পর্যন্ত ১৫ দশমিক ৪ ওভারে মাত্র ৬৯ রানে অলআউট হয় তারা।
ভারতের হয়ে বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন দীপ্তি শর্মা। মাত্র ৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তিনি। শ্রেয়া চরানি ও শেফালি ভার্মা নেন দুটি করে উইকেট। ভারতের স্পিন আক্রমণের সামনে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় ১৪৭ রানের বিশাল জয় পায় ভারত।
এই জয়ে ২০২৩ সালের পর ২০২৬ এশিয়ান গেমসেও নারী ক্রিকেটের স্বর্ণের পদক নিজেদের দখলে রাখল ভারত।