দুই দিনে হাসপাতাল করলো চীন

প্রকাশিত: ১২:১৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৯, ২০২০

দুই দিনে হাসপাতাল করলো চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

একটি খালি ভবনে টানা ৪৮ ঘণ্টা কাজ করে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট একটি মেডিকেল সেন্টারে রূপান্তর করেছে চীন। করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকায় এক সাপ্তার সময় নিয়ে হাসপাতাল নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিল চীন। সে অনুযায়ী রাতারাতি হাসপাতাল তৈরির কাজ শেষ করে।

 

দেশটি। উহান শহরের কাছেই অবস্থিত ওই হাসপাতালটি চালু করা হয়েছে। আজ বুধবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের ডেবি মাউন্টেন রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে স্থানান্তর করা হবে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে।মার্কিন সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই কাজে সহযোগিতা করায় লোকজনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ৪৮ ঘণ্টার দীর্ঘ পরিশ্রমে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। নির্মাণ সংস্থা, ইউটিলিটি কোম্পানি এবং আধাসামরিক পুলিশ কর্মকর্তারা যৌথভাবে এই কাজে সহায়তা করায় তাদের ধন্যবাদ।

 

হুয়াংঝু জেলায় নির্মিত ওই হাসপাতাল ভবনটি মূলত হুয়ানগ্যাং সেন্ট্রাল হাসপাতালের একটি নতুন শাখা। এটি আগামী মে মাসে চালু করার কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ ওই হাসপাতালকে এখন করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহারের চিন্তা করেছে।

 

জানা গেছে, ওই ভবনের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেলেও তা খালিই পড়ে ছিল। গত শুক্রবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সেখানে শুধুমাত্র করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছে।সোমবার স্বেচ্ছাসেবিরা সেখানে এক হাজার শয্যা স্থাপন করেছেন। এ ছাড়া পানি, বিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়েছে। পাঁচ শতাধিক শ্রমিক এবং কয়েক ডজন ভারী যানবাহন দিয়ে গত দুই দিন টানা কাজ করে হাসপাতালের কাজ শেষ করা হয়েছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য এ জাতীয় আরও তিনটি হাসপাতাল নির্মিত হচ্ছে। এর মধ্যে চীনের উহানে দুটি এবং ঝেংঝুতে একটি হাসপাতাল নির্মিত হবে।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নতুন এই ভাইরাসের নাম দিয়েছে ২০১৯ নভেল করোনাভাইরাস। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে চীনে সফর করেছেন এমন লোকজনের মাধ্যমেই এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। সে কারণে অনেক দেশই এই ভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে চীন সফরে নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা এনেছে। মূলত চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে গত বছরের ডিসেম্বরে প্রথম এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। সামুদ্রিক খাবারের একটি বাজার থেকেই এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হয়। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ১৩২ জন মারা গেছে। আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ছয় হাজার মানুষ। চীন ছাড়াও আরও ১৮টি দেশের ৭৮ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

April 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930