বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৭ মার্চ ভাষণ

প্রকাশিত: ১২:২৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ৭, ২০২০

বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৭ মার্চ ভাষণ
Spread the love

২০ Views

লন্ডন বাংলা ডেস্কঃঃ

 

আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। ১৯৭১ সালের এই দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যুগান্তকারী ভাষণের জন্য স্মরণীয় হয়ে আছে। ওই দিন পড়ন্ত বিকালে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন তিনি। বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। এর পরই ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা অর্জিত হয়। এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বমানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

 

সেদিন এ ভাষণ শুনে স্বাধীনতার শপথ নিয়েছিলেন পাকিস্তানিদের শোষণ-নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠা মুক্তিকামী বাঙালি। মাত্র ১৯ মিনিটে তার এই উদ্দীপ্ত ভাষণকে স্বাধীনতার ঘোষণা হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। তিনি বলেছিলেন, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে।

 

সেদিন বঙ্গবন্ধু ভরাট কণ্ঠে আরও বলেছিলেন- ‘ভাইয়েরা আমার, আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না। …এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।

 

লাখ লাখ মুক্তিকামী জনতার উদ্দেশে এই মহান নেতা তর্জনী নাড়িয়ে বজ্রকণ্ঠে আওয়াজ করেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ।’ এই আওয়াজে আজ সারাদেশ মুখর হবে।

 

উত্তাল জনসমুদ্রে বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণ বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা দিয়েছিল। এ কারণে এই ভাষণ সব সময় বিশেষ কিছু। ২০১৭ সালে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেসকো বিশ্ব ইতিহাসের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে গ্রহণ করে ভাষণটিকে।

 

সংস্থাটি বিশ্বের ৭৮টি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল, নথি ও বক্তৃতার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণও অন্তর্ভুক্ত করে। এর পর সরকারিভাবে দিবসটি আড়ম্বরের সঙ্গে পালন করা হয়।

 

এবার দিনটি বিশেষভাবে তাৎপর্যময়। কারণ আর মাত্র ৯ দিন পর আগামী ১৭ মার্চ জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপিত হতে যাচ্ছে। এবারের ৭ মার্চ পালনে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার ও আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন।

 

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করতে দেয়নি তখনকার পাকিস্তান সরকার। কিন্তু পরদিন বিভিন্ন পত্রিকায় তা ফলাও করে প্রকাশিত হয়। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু মঞ্চে আসেন বেলা ৩টা ২০ মিনিটে।

 

বঙ্গবন্ধু এমন এক সময় এ ভাষণ দিয়েছিলেন, যখন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ-বঞ্চনায় অতিষ্ঠ হয়ে গোটা জাতি লড়াই শুরু করার আহ্বানের অধীর অপেক্ষায় ছিল।

 

পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ২৩ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের যে ভিত রচিত হয়, তারই চূড়ান্ত পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর এই দিনে ভাষণ দেন। এতে ছাত্র-কৃষক-শ্রমিকসহ সর্বস্তরের বাঙালি নতুন প্রেরণা খুঁজে পায়। এর পর ৯ মাসের রক্তস্নাত যুদ্ধে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় ছিনিয়ে আনে বাঙালি জাতি।

 

দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।

 

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ কেবল আমাদের নয়, বিশ্ববাসীর জন্য প্রেরণার চিরন্তন উৎস হয়ে থাকবে।

 

একটি ভাষণ কীভাবে গোটা জাতিকে জাগিয়ে তোলে, স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উৎসাহিত করে, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ তার অনন্য উদাহরণ।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অমিত শক্তির উৎস ছিল বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ। কালজয়ী এই ভাষণ বিশ্বের শোষিত, বঞ্চিত ও মুক্তিকামী মানুষের সব সময় প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

 

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের স্মৃতিবিজড়িত ৭ মার্চ উপলক্ষে দেশের সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কর্মসূচি পালন করবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

 

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ভোর সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় এবং দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। বেলা সাড়ে ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে আলোচনাসভা।

 

আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


Spread the love