৬ শিশুর মৃত্যু আদ্-দ্বীনের জবাবে সন্তুষ্ট নই, সিদ্ধান্ত বৈঠকের পর: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৩:২৮ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০২৬

৬ শিশুর মৃত্যু আদ্-দ্বীনের জবাবে সন্তুষ্ট নই, সিদ্ধান্ত বৈঠকের পর: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::

 

রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় কর্তৃপক্ষ শোকজের যে জবাব দিয়েছে তাতে সরকার সন্তুষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন।একই সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

আজ বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আদ্-দ্বীন হাসপাতাল জবাব দিয়েছে, সেটি পড়েছি। প্রয়োজনীয় তথ্যের বাইরে অনেক গল্প-কাহিনী তারা লিখেছে, যা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।’

 

তিনি বলেন, ‘আজকের বৈঠকের পর এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আদ্-দ্বীন হাসপাতালের জবাবে আমি সন্তুষ্ট নই।’

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাঠানো ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘তারা চার থেকে পাঁচ পৃষ্ঠা লিখেছে, কিন্তু সবই ভেগ (অস্পষ্ট) রিপ্লাই। প্রয়োজনীয় তথ্য না দিয়ে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বেশি লিখেছে।’

 

বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান বৈঠকের পর জানানো হবে।

 

প্রসঙ্গত, গত ২৭ মে ভোরে হাসপাতালটির পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা ছয় নবজাতক কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মারা যায়। ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত অব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও নার্সদের গাফিলতির একাধিক দিক উঠে আসে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ওয়ার্ডটি নবজাতক ও অস্ত্রোপচার-পরবর্তী রোগীদের জন্য উপযুক্ত ছিল না; পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের অভাব ছিল এবং এসি ব্যবস্থাও অপ্রতুল ও অনিয়মিতভাবে পরিচালিত হতো।

 

তদন্তে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না এবং গুরুতর অবস্থার পরও সময়মতো চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়নি।

 

তদন্ত প্রতিবেদনে নবজাতকদের শারীরিক অবস্থা জন্মের পর সুস্থ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি বলা হয়, প্রসব-পরবর্তী জটিলতার জন্য বিশেষ চিকিৎসা বা ইনকিউবেটরের প্রয়োজনীয়তা ছিল না। তবে হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও যথাযথ চিকিৎসা ও জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণে ঘাটতি ছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।

 

একই সঙ্গে হাসপাতালের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধানের অভাব এবং প্রশাসনিক ত্রুটির কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এর আগে গত ৪ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসানের সই করা এক চিঠিতে শোকজ করা হয়েছিল।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

June 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930