সিলেট ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৫:২৫ অপরাহ্ণ, মে ৫, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চামড়াখাতে অর্থের জোগান বাড়াতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে একদিকে সংশ্লিস্ট ব্যবসায়ীদের চলতি মূলধন ঋণ দিতে বলা হয়েছে, অন্যদিকে পুনঃতফসিল ঋণ থাকা ব্যবসায়ীদের জন্যও বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা নতুন ঋণ নিতে পারেন। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, চামড়াশিল্প দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিমুখী খাত। এই খাতের বড় অংশের কাঁচামাল আসে ঈদুল আজহার সময় কোরবানির পশুর চামড়া থেকে। তাই এই সময় ব্যবসায়ীদের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ থাকাটা খুবই জরুরি। এতে চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিক্রি- সবকিছুই ঠিকভাবে করা সম্ভব হবে।
এ কারণে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, চামড়া ব্যবসায়ীদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী চলতি মূলধন ঋণ মঞ্জুর ও বিতরণ করতে। শুধু বড় ব্যবসায়ী নয়, গ্রাম ও হাট পর্যায়ে যারা চামড়া সংগ্রহ করেন, তাদের কাছেও এই ঋণের অর্থ পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সার্কুলার অনুযায়ী, যেসব ব্যবসায়ীর আগের ঋণ পুনঃতফসিল করা রয়েছে, তারা নতুন করে চামড়া কেনার জন্য ঋণ নিতে গেলে সাধারণত একটি নির্দিষ্ট অর্থ পরিশোধ করতে হয়। এবার সেই বাধ্যবাধকতা আগামী ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত শিথিল করা হয়েছে। ফলে আগের বকেয়া নিষ্পত্তি না করেও নতুন করে ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন অনেক ব্যবসায়ী।
এ ছাড়া ব্যাংকগুলোকে ২০২৬ সালের জন্য চামড়াখাতে ঋণ বিতরণের একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা গত বছরের চেয়ে কম রাখা যাবে না। নির্ধারিত লক্ষ্য ও বাস্তবায়নের তথ্য আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগের ফলে ঈদের সময় চামড়া বাজারে অর্থ সংকট কমতে পারে। ব্যবসায়ীরা সহজে চামড়া কিনতে পারলে ন্যায্য দাম নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে। তবে একই সঙ্গে কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। কারণ শর্ত শিথিলের কারণে আগের ঋণ পুরোপুরি ঠিক না করেই নতুন ঋণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে খেলাপি ঋণ বাড়াতে পারে।