সিলেট ২৪শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:৩১ অপরাহ্ণ, মে ২৩, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
ইরানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি প্রায় ১০০ কোটি ডলার মূল্যের অত্যাধুনিক মানববিহীন মার্কিন ড্রোন ব্যাপকভাবে ধ্বংস করেছে। ইরানের হামলায় দেশটির ড্রোন মজুদের প্রায় ২০ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।
শুক্রবার (২২ মে) ব্লুমবার্গের বরাতে মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ড্রোনের অনেকগুলো আকাশে থাকা অবস্থায় ইরান ভূপাতিত করেছে। এছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের হামলায় কিছু ড্রোন মাটিতেই ধ্বংস হয়ে যায়। এই ড্রোনগুলো নজরদারির পাশাপাশি হামলা চালাতেও সক্ষম। সাধারণত এগুলোতে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র অথবা নির্ভুল নির্দেশনাযুক্ত বোমা বহন করা হয়।
ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ ৩০টি এমন ড্রোন হারিয়ে থাকতে পারে। অথচ চলতি মাসে কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থার এক প্রতিবেদনে ক্ষতির সংখ্যা ২৪টি বলা হয়েছিল। প্রায় ১০০ কোটি ডলারের এই ক্ষতি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ব্যয় আরও বাড়িয়েছে। মে মাসে পেন্টাগনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, যুদ্ধের মোট খরচ প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে এই ড্রোনব্যবস্থাকে অবসরে পাঠাচ্ছে। তবে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিদেশি ক্রেতাদের জন্য এখনও এগুলো তৈরি করে যাচ্ছে।
চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ইরানের সামরিক কমান্ডাররা হয়তো নিজেদের আকাশসীমায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমানের চলাচলের ধরন বিশ্লেষণ করে ফেলেছেন। ফলে ভবিষ্যতে ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি আবার ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে ঝুঁকি আরও বাড়বে।
নিউইয়র্ক টাইমস আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানগুলোর চলাচলের ধরন শনাক্ত করতে রাশিয়া ইরানকে সহায়তা করে থাকতে পারে। নিজেদের সামরিক সম্পদ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও কার্যকরভাবে মোতায়েন করতে এ ধরনের সহায়তা পেয়ে থাকতে পারে দেশটি।
ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সহযোগিতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া ইরানকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক সদস্যদের স্যাটেলাইট চিত্রও সরবরাহ করেছে।