বন্দর নগরী চট্টগ্রামে রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার

প্রকাশিত: ১২:৩৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার
Spread the love

২৬ Views

 

                                                 প্রশাসনের নিরবতায়

জেসমিন আক্তারঃঃ

উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশকে সকলে একযোগে কাজ করে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে বিশ্ব উন্নয়নবের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশকে কাঙ্খিত লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে আগামী প্রজন্মের জন্য্য স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়া খুব দ্রুতই সম্ভব । উন্নয়নের স্বপ্ন বাস্তবায়ের প্রধান অন্তরায় হচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ী এবং কিছু প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাগণ। চট্টগ্রাম বাংলাদেশর বাণিজ্যিক রাজধানী এবং এর মধ্য দিয়েই সঞ্চালিত হয় দেশের অর্থনৈতিক জীবনীশক্তি। দেশের সর্বমোট রপ্তানী বাণিজ্যের প্রায় ৭৫ভাগ সংঘটিত হয় চট্টগ্রামের উপর দিয়ে। অন্যদিকে আমদানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এ হার ৮০ ভাগ রাজস্ব আয়েও চট্টগ্রামের ভুমিকা অপরিসীম । আমাদের মোট রাজস্ব আয়ের শতকরা ৬০ ভাগ আসে চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে। যেমন- চট্টগ্রামের মাধ্যমে রপ্তানী : দেশের মোট রপ্তানী বাণিজ্যের শতকরা ৭৫ ভাগ।

 

চট্টগ্রামের মাধ্যমে আমদানী : দেশের মোট আমদানি বাণিজ্যের শতকরা ৮০ ভাগ রাজস্ব আয় -এভূমিকা : মোট রাজস্ব আয়ের ৬০ ভাগের বেশীজিডিপি-তে অবদান : ১২%, সমুদ্রবন্দর : ১টি, আন্তর্জাতিকবিমানবন্দর : ১টিইপিজেড : ৩টি, গার্মেন্টস । দেশের অর্থনৈতিক গুরুত্বের বিশাল অবস্থানে থাকা চট্টগ্রামকে আরও অধিক উন্নয়নের বাধাঁ সৃষ্টি করে রেখেছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ীগণ । সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে তারা ভারী করছেন ব্যক্তিগত হিসাব। সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে যারা আড়ালে ব্যবসা করছেন তাদের চিহ্নিত করার লক্ষে অনুসন্ধানে জানা যায় এদের একটি বিশাল সিন্ডিকেট রয়েছে। কিছু ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী তাদের পরিবহন দিয়ে সহযোগীতা করে আসছেন এ-ই সিন্ডিকেটকে। জানা যায় এ-ই অসাধু সিন্ডিকেটের শাহ আমানত ট্রান্সপোর্টের ২ টি গাড়ী গত মাস দুয়েক আগে কাস্টমসের এআরও ফিরোজের তদারকিতে জব্দ হয় এবং কাস্টমস জরিমানা করেন যাহা এখনও বিচারাধীন রয়েছে । অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে পরিবহন এবং পণ্য উৎপাদন , আমদানি ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সব ধরণের পণ্যই বহন করেন মোটা অংকের বিনিময়ে ।

 

অনিয়ম বন্ধ ও সরকারের রাজস্বের হার বৃদ্ধি করে উন্নয়ন অব্যাহত করার লক্ষ্যে তদন্তে দেখা যায় নগরীর অক্সিজেন চেক পোষ্ট, ২ নম্বরগেইট চেকপোষ্ট , পাহাড়তলী, সিটি গেট সীমান্তে কয়েকটি গাড়ী তল্লাশি করা হলে ধরা পড়ে গাড়ীর কোন সঠিক কাগজপত্র এবং কি বহনকৃত পণ্যের সঠিক কোন বৈধতা নেই। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অক্সিজেন চেক পোস্টে শাহ আমানত ট্রান্সপোর্ট এর- (১১২৯৩৩-চ-মেট্রো) একটি গাড়ী তল্লাশি করা হয় পুলিশের উপস্থিতিতে। জানা যায় তখন কর্তব্যরত বায়েজিদ থানার এএস আই হানিফ নিশ্চিত করেন গাড়ি এবং মালামালের কোনো সঠিক কাগজপত্র নেই। এই অবস্থায় আইনি সহায়তার জন্য বায়েজিদ থানার ওসি ফোন করে বিষয়টি অবগত করলে তিনি (ওসি)বলেন, বিষয়টি দেখবেন কাস্টমস আমরা এ-ই বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নিতে পারবো না আপনারা কাস্টমস কে জানান। বিষয়টি দেখছি বলে ফোন রেখে দেন। ঐমূহর্তে এএসআই কে থানার মুন্সী গাড়ীটি ছেড়ে দিতে বলেন। তখন এ এস আই বলেন এটা থানা ক্লিয়ারেন্স আছে আমি কিছু করতে পারবো না বলে গাড়ীটি ছেড়ে দিলেন । এই ফাকেঁ বেচেঁ গেলেন অপরাধী দূর্নীতিবাজ চক্র। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত ০৯/০২/২০২০ইং রাত আনুমানিক ৯ ঘটিকায় আকবরশাহ থানাধীন সিটি গেইট পুলিশ বক্স এর সামনে দিয়ে চট্রগ্রাম সেনানিবাস পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ সংলগ্ন সুপার নিট থেকে নারায়ণগঞ্জ (বিসমিল্লাহ ট্রেডাস) উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসার সময় শাহ্ আমানত ট্রান্সপোর্ট- এর (চট্ট- মেট্রো -১১-০১২৬) একটি কভার ভ্যান থামানো হয় এস আই আমিনুল ইসলাম এবং এ এস আই সামাদের সহযোগিতায় অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে। কর্তব্যরত এস আই আমিরুল,এ এস আই সামাদ গাড়ি ও বহনকৃত পণ্যর কাগজপত্র গুলো দেখেন এবং নিশ্চিত করেন যে পণ্য গুলোর কোন প্রকার বৈধতা নেই তিনি গাড়িটি আটক রেখে মালিক পক্ষকে বৈধতা প্রমাণের সুযোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু মালিকপক্ষ ব্যর্থ হওয়াতে রাত ১২ ঘটিকার সময় গাড়িটি আকবরশাহ থানায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা যায় ।

 

এ এস আই আব্দুস সামাদ জানান, মালামালের ভ্যাট চালান এবং গাড়ীর কোন কাগজ পত্র না থাকার কারণে গাড়ীটি জব্দ করা হয়। পরক্ষণে মালিকপক্ষ মাসুমের নিকট জানতে চাইলে বলেন আর ভূল হবেনা এইবারের মত মাফ করে দেন। আপনাদেরকে আমি সন্মান করবো বলে কাকুতিমিনতি করতে থাকেন। মধ্যরাতে থানায় ওসি না থাকার কারণে পরের দিন আসতে বলেন তথ্য সংগ্রহে অপেক্ষমান সাংবাদিকগণকে। একটি গাড়ী আটক করার ১৪/১৫ ঘন্টা পরেও যখন কোন প্রকার আইনি পদক্ষেপের বিষয় নিশ্চিত হয়নি তখন পরদিন আনুমানিক ৩ টায় সময় এসআই আমিরুলকে ফোন করলে তিনি বলেন এখনও তারা কোন বৈধ কাগজপত্র নিয়ে আসেনি বিষয়টা এসি, ওসি স্যার অবগত আছেন পদক্ষেপ নিয়ে জানাবো ।

 

চব্বিশ ঘণ্টা অতিক্রম হয়ে যাওয়ার পরও যখন কোন আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বিষয়টি যখন আরও ঘোলাটে মনে হচ্ছে তখন চট্টগ্রামের প্রতিনিধি থানায় অবস্থান করে ওসিকে না পেয়ে ফোন ফোন দিলে তিনি( ওসি) বলেন আপনি ওসি অপারেশন – এর সাথে যোগাযোগ করেন বলে জানালেন। তখন ওসি অপারেশনের সাথে প্রতিনিধির ফোনে কথা বললে তিনি বলেন গতরাত ৯ টার সময় তারা কাগজপত্র দেখিয়ে গাড়ী নিয়ে গেল আমরা একটি জিডি করেছি এই মর্মে। তখন তার কাছে জানতে চাওয়া হয় অবৈধতার ভিত্তিতে আপনারা গাড়ীটি মালসহ জব্দ করেন। পরক্ষণে ২৪ ঘন্টা পরে কিভাবে এটা বৈধ হল। রাত ৯ টায় জিডি করে গাড়ী ছেড়ে দেওয়া হয়েছে কিন্তু আমারা ফোন করলে আপনাদের কেউ কোন সারা দেয়নি তথ্যটা যেহেতু সাংবাদিকের সেহেতু আপনাদের জানানো কর্তব্য ছিল। তখন তার নিকট জিডির কপি চাইলে তিনি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং বলেন ওসি স্যার বললে দিব উনার (ওসি)র সাথে যোগাযোগ করেন এ-ই বিষয়ে স্যার বলতে পারবেন এ-ই বলে ফোন রেখে দিলেন। বুঝতে বাকী থাকলো না এভাবেই চলছে হরিলুট, ভাগের বেলায় সবাই অপরাধের দায়ভার এরাতে কাঁদা ছুড়াছুঁড়িতে দিশেহারা সবাই ।

 

অপরাধী দূর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটকে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিহত না করলে এদেশ দূর্নীতি মুক্ত হবে না লুঠের রাজ্যেই থেকে যাবে আর উন্নয়নের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রার বাংলাদেশ আমরা শুধু স্বপ্নই দেখবো বাস্তবে ফলাফল হবে শূণ্য।


Spread the love

Follow us

আর্কাইভ

October 2022
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31