কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সীমানা বিধিনিষেধের ঘোষণা আসতে পারে শুক্রবার

প্রকাশিত: ১:১৮ অপরাহ্ণ, জুন ৯, ২০২১

কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সীমানা বিধিনিষেধের ঘোষণা আসতে পারে শুক্রবার

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃঃ

কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সীমানা পুনরায় খোলার পরিকল্পনার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে পুরোপুরি টিকা নেওয়া মানুষ কীভাবে এই দুই দেশের মধ্যে আরও সহজে ভ্রমণ করতে পারে সে সম্পর্কে শুক্রবারেই একটি ঘোষণা আসতে পারে।

 

বর্তমানে, সীমান্তটি সমস্ত প্রয়োজনীয় যাত্রাপথের জন্য বন্ধ রয়েছে, যদিও নাগরিক এবং স্থায়ী বাসিন্দারা কানাডায় প্রবেশের অনুমতি পেয়েছেন।গত মাসে কোভিড-১৯ টেস্টিং এবং স্ক্রিনিংয়ের ফেডারেল প্যানেল ভ্রমণ পুনরায় শুরু করার জন্য নির্দেশিকা তৈরি করেছিল।

উল্লেখ্য, সীমান্তের মেয়াদ ২১ জুন শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তাই সকলের দৃষ্টি এখন নতুন ঘোষণায় কি আসছে সেই দিকে তাকিয়ে।কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো মঙ্গলবার সেই লক্ষ্য নিশ্চিত করতে অস্বীকার করেছেন। অটোয়ায় একটি সংবাদ সম্মেলনে ট্রুডো বলেছেন, যখন ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে, তখন আপনি নিশ্চিত হতে পারেন যে আমরা সেগুলো করব।

 

তবে তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন যারা পুরোপুরি ভ্যাকসিন পেয়েছেন তারা সর্বপ্রথম ভ্রমণ বিধিনিষেধের যে কোনও রোলব্যাক থেকে উপকার পাবেন।অটোয়ায় ট্রুডো সংবাদ সম্মেলনে আরো বলেন, জনসাধারণ যাতে তাদের ভ্যাকসিনের সম্পূর্ণ দু’টি ডোজ গ্রহণ করে, সেজন্য পুরোপুরি টিকা দেওয়া কানাডিয়ানদের প্রতি নিষেধাজ্ঞাগুলো সহজ করা হবে।

 

পর্যটন ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলো ভ্যাকসিনের হারের ভিত্তিতে স্থল সীমান্ত পেরিয়ে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণকে সীমাবদ্ধ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার যৌথ উদ্যোগে পুনর্বিবেচনার আহ্বানের সাথে মঙ্গলবার কানাডাকে একটি আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

 

তবে কাউকে কীভাবে টিকা দেওয়া হয়েছে তা প্রমাণ করার বিষয়টি কানাডার প্রিমিয়ারদের কাছে একটি স্টিকিং পয়েন্ট বলে মনে হচ্ছে, ট্রুডো বলেছেন যে সীমানা পুনরায় খোলার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে তিনি পাশে থাকতে চান।

 

বিশিষ্ট কলামিস্ট, উন্নয়ন গবেষক ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষক মো. মাহমুদ হাসান বলেন, দ্রুত গতিতে ভ্যাক্সিনেশন কাভারেজ আর কোভিড-১৯ এর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ ব্যতিত অন্যকোন বিকল্প পথ যে খোলা নেই, দ্রুত কোভিড পরিস্থিতির উন্নয়ন সে কথাটিই প্রমাণ করে। জীবন জীবিকার উন্নয়ন আর দীর্ঘ শিক্ষা বিরতি সামাজিক ও মনোজাগতিক ক্ষেত্রে যে প্রতিকূল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে তা থেকে উত্তরণে সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে জাস্টিন ট্রুডোর সরকার।

 

বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব এবং রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কিরন বনিক শংকর করোনা কালীন এই সময়ে কানাডার প্রধান মন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সরকারের নেয়া প্রতিটি পদক্ষেপেরই প্রশংসা করে বলেন, দেশটির নাগরিকদের সুস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখতে তাঁর বিকল্প নেই।

 

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সীমান্ত অনাবশ্যক ভ্রমণকারীদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে স্থল ও আকাশপথে যাত্রী চলাচল নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। এ বিধিনিষেধের বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে কানাডার পর্যটন খাতে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এয়ারলাইন্সগুলো।

 

এক হিসাব বলছে, বিধিনিষেধের ফলে গতবছর এ খাত ১ হাজার ৬৫০ কোটি ডলার রাজস্ব হারিয়েছে। এ ক্ষতির কথা চিন্তা করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সীমান্ত খুলে দেওয়ার ব্যাপারে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে ট্রুডো সরকার। যদিও ভ্যাকসিনেশনে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে কানাডা।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

April 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930