সিলেট ১৩ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:২৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩০, ২০২৫
আন্তজাতিক ডেস্ক ::
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেও হামলা অব্যাহত রেখেছে দখলদার ইসরায়েল। এর ফলে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলি আগ্রাসনে উপত্যকাটিতে নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত গাজা উপত্যকায় কমপক্ষে ৭০ হাজার ১০০ জন নিহত হয়েছেন বলে শনিবার (২৯ নভেম্বর) জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ৭০ হাজার ৯০০ জনের বেশি মানুষ।
হতাহতের এই ভয়াবহ সংখ্যাটি এমন এক সময়ে এলো, যার কয়েক সপ্তাহ আগেই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। কিন্তু সেই চুক্তি সত্ত্বেও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী স্থল, নৌ ও আকাশপথে বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে শনিবার সকালে খান ইউনিসের পূর্বদিকে বানী সুফাইলা শহরে ড্রোন হামলায় দুই ফিলিস্তিনি শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসাকর্মীরা।
আল জাজিরাকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আল-ফারাবি স্কুলের কাছে কয়েকজন সাধারণ মানুষের ওপর ড্রোন থেকে বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে জুমা এবং ফাদি তামের আবু আসি নামের দুই ভাই নিহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের খান ইউনিসের নাসের মেডিক্যাল কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা পরে তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
মূলত শনিবার গাজার বিভিন্ন স্থানে স্থল, নৌ ও বিমান- তিন দিক থেকেই নতুন করে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। চিকিৎসা সূত্র জানায়, খান ইউনিসের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আল-কারারা এলাকায় ইসরায়েলি গোলাবর্ষণ ও বোমাবর্ষণে কমপক্ষে তিনজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।
গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলীয় তুফফাহ এলাকায়ও শনিবার সকালে ইসরায়েলি বিমান থেকে হামলা চালানো হয়। পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফাহর পূর্ব দিকেও হামলা হয়। এর আগের দিন নাসের মেডিক্যাল কমপ্লেক্স জানায়, বানী সুফাইলায় ইয়েলো লাইনের বাইরে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় একজন ফিলিস্তিনি নিহত হন।
গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয়ের মহাপরিচালক ইসমাইল আল-থাওয়াবতা শুক্রবার জানান, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে ইসরায়েল তা ৫৩৫ বার লঙ্ঘন করেছে। তিনি বলেন, গাজার মানবিক পরিস্থিতি নজিরবিহীন মাত্রায় অবনতির দিকে যাচ্ছে। ইসরায়েলি আগ্রাসনে অবকাঠামো ও জরুরি সেবাগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে।