সিলেট ২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:৩৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ১, ২০২৬
আন্তজাতিক ডেস্ক ::
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা যখন সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, তখন বিশ্বজুড়ে একটি প্রশ্ন ঘুরছে—চীন কি তেহরানকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসবে? আর এলে কীভাবে সাহায্য করবে? এখন যেহেতু ইরানজুড়ে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, তাই সেই প্রশ্ন আরও জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে।
এর উত্তর সোজা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ নয়। চীন সরাসরি সেনা পাঠাবে বা যুদ্ধে অংশ নেবে—এমন সম্ভাবনা খুব কম। কিন্তু এটাকে নিষ্ক্রিয়তা ভাবা ভুল হবে। একুশ শতাব্দীর শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর প্রতিযোগিতা এখন ভিন্নভাবে পরিচালিত হয়।
চীনের ইরানকে সমর্থন বাস্তব ও বহুস্তরীয়। এটি সামরিক হস্তক্ষেপের মতো দৃশ্যমান নয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে আরও কার্যকর হতে পারে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে চীন তার ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে কূটনৈতিক সমর্থন দিয়েছে তেহরানকে। চীন স্পষ্টভাবে বলেছে, তারা ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সমর্থন করে এবং শক্তি প্রয়োগের বিরোধী। এর মাধ্যমে চীন আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইরানকে বৈধতা এবং এরই মধ্যে পশ্চিমা চাপের বিরুদ্ধে একটি পাল্টা অবস্থান নিয়েছে।
২০২১ সালে ইরান পূর্ণ সদস্য হিসেবে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় যোগ দেয়। পরে ব্রিকস জোটেও অন্তর্ভুক্ত হয়। এগুলো সামরিক জোট নয়, তবে কৌশলগত সমন্বয়ের স্থায়ী কাঠামো তৈরি করে। ফলে ইরানের বিরুদ্ধে যে কোনো আগ্রাসন এখন যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী শক্তিগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
চীন সরাসরি যুদ্ধে না জড়ালেও সহযোগিতা বাড়িয়েছে। রাশিয়া, চীন ও ইরান সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে যৌথ নৌ মহড়া করেছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন ইরানকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়েছে। এমনকি উন্নত যুদ্ধবিমান দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও শোনা গেছে, যদিও তা নিশ্চিত নয়।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন এখনো ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা। ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল চীনে যায়। এর মাধ্যমে চীন ইরানের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে।
তাহলে চীন আরও এগিয়ে যায় না কেন? কারণ বেইজিংয়ের প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য হলো নিজস্ব জাতীয় অগ্রাধিকার, বিশেষ করে তাইওয়ান প্রশ্নে পুনঃএকত্রীকরণ। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি বড় সংঘাতে জড়াতে চায় না। চীনের কৌশল অনেকটা ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ের অবস্থানের মতো—সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নেওয়া, কিন্তু কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা।