সিলেট ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৪:৩৪ অপরাহ্ণ, জুন ৪, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের প্রায় ছয় হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা অনুমোদন করেছে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ। বিভিন্ন ধরনের ভাতা ও আনুষঙ্গিক পারিশ্রমিক এক ধাক্কায় ১৮৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, খাদ্য ভর্তুকি দ্বিগুণ করা হয়েছে এবং অস্থায়ী কর্মীদের দৈনিক মজুরিও বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পে-স্কেল সুবিধা যুক্ত হবে। পরিচালনা পর্ষদের এ সিদ্ধান্তে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত থাকা ভাতা কাঠামোর কারণে কর্মীদের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত স্বস্তি তৈরি করলেও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে বিমানের প্রধান আয়ের খাত গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং হাতছাড়া হচ্ছে। এটি পরিচালনা করবে জাপানি সংস্থা। এ খাত থেকে বিমানে বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ হতো। এ কারণে আর্থিকভাবে চাপে পড়বে প্রতিষ্ঠানটি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেনের ২ জুন স্বাক্ষরিত একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। এ আদেশে বলা হয়, গত ২০ মে সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সভায় ককপিট ক্রু ব্যতীত বিমান, বাংলাদেশ ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টার (বিএফসিসি) এবং বিমান পোলট্রি কমপ্লেক্সে (বিপিসি) কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতা পুনর্নির্ধারণের অনুমোদন দেওয়া হয়।
কার্যবিবরণী অনুযায়ী, বিমান এবং বিএফসিসিতে কর্মরত পে ডিভিশন-৬ ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এভিয়েশন, ট্রেড, ওয়াশিং/কিট, এক্সিকিউটিভ ও এন্টারটেইনমেন্ট ভাতা বিদ্যমান হারের তুলনায় ১৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে পে ডিভিশন-১ থেকে ৫ পর্যন্ত কর্মচারীদের জন্য এভিয়েশন, ট্রেড এবং ওয়াশিং-কিট ভাতা ২০০৫ সালে নির্ধারিত হারের ওপর ১৮৫ শতাংশ বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বর্তমানে উপস্থিতির ভিত্তিতে দৈনিক ২০০ টাকা খাদ্য ভর্তুকি ভাতা পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ভাতা দ্বিগুণ করে দৈনিক ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব সুবিধা ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। ফলে সংশ্লিষ্টদের বকেয়া ভাতাও পরিশোধ করতে হবে।
পর্ষদের সিদ্ধান্তে আরও বলা হয়েছে, বিপিসিতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যও বিমান ও বিএফসিসির অনুরূপ ভাতা কাঠামো চালু করা হবে। পাশাপাশি বিমান, বিএফসিসি এবং বিপিসিতে কর্মরত সব অস্থায়ী কর্মচারীর দৈনিক মজুরি অতিরিক্ত ২০০ টাকা বৃদ্ধি করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বিমান সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভাতা বৃদ্ধির আওতায় কর্মকর্তা, কর্মচারী ও অস্থায়ী জনবল মিলিয়ে প্রায় ছয় হাজার ব্যক্তি উপকৃত হবেন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ভাতা অপরিবর্তিত থাকায় কর্মচারী সংগঠনগুলো ভাতা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছিল। বিশেষ পর্ষদ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
হিসাব অনুযায়ী, নতুন ভাতা কাঠামো বাস্তবায়নের ফলে বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে। বিমান খাতের বিশ্লেষকদের মতে, কর্মীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিন ভাতা অপরিবর্তিত থাকার বিষয়টি বিবেচনায় ভাতা পুনর্নির্ধারণ যৌক্তিক হতে পারে। তবে একই সঙ্গে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, সেবার মান উন্নয়ন এবং আর্থিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও জরুরি। অন্যথায় অতিরিক্ত ব্যয় প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোশরা ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর পর কর্তৃপক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি বাস্তবায়ন করেছে। বেতন-ভাতা কম থাকায় অনেক কর্মী চাকরি ছেড়ে অন্য এয়ারলাইন্সে যোগদান করেন। এ ভাতা বৃদ্ধির কারণে আর্থিকভাবে তেমন একটা চাপে পড়বে না বলে তিনি দাবি করেন।