“লকডাউন” মানি কিন্তু মানবোনা!

প্রকাশিত: ৬:১৪ অপরাহ্ণ, জুন ৯, ২০২০

“লকডাউন” মানি কিন্তু মানবোনা!

মুক্তমত

 

একজন আদর্শ নাগরিক একা কখনো আদর্শের ধারক বাহক হতে পারেনা। নাগরিকের পাশাপাশি রাষ্ট্র -সমাজ এবং তার পারিপার্শ্বিক পরিস্হিতিও আদর্শিক হওয়া অত্যাবশ্যক। লকডাউন” মানি কিন্ত মানবোনা! কোভিট -19 সারা বিশ্বজুড়ে যে তান্ডবলিলা চালাইতেছে তার একটা অংশের অংশীদার আমরা। ইউরোপ,আমেরিকা, চীন,জাপান,রাশিয়া,ভারত যেখানে পরাস্হ আমরা বেঁচে আছি তা তো মন্দের ভাল।পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য বৈকি! তাদের অর্থনৈতিক,সামাজিক,প্রাকৃতিক অবস্থা আর আমাদের সক্ষমতা ‘র মধ্যে বিস্তর পার্থক্য। যাইহোক, মুলকথায় আসা যেতে পারে।

 

প্রসঙ্গ “লকডাউন” কেন মানবো আবার কেন মানবোনা! মানবো এ জন্য যে আমি একজন আদর্শ নাগরিক রাষ্ট্র তথা দেশের আইনকানুন মেনে চলতে আমি বাধ্য বা দায়িত্ব এবং কর্তব্যও বটে! আমার প্রশ্ন?আমি কতোসময় পর্যন্ত এই আদর্শের জায়গায় অনঢ় থাকতে পারবো?যতক্ষণ না পর্যন্ত আমার মৌলিক অধিকার ক্ষর্ব না হয়।মানবতা বিপর্যস্ত না হয়। পিতা,স্বামী,সন্তান সর্বপরি একজন যোগ্য অভিভাবক হিসেবে অর্পিত দায়িত্ব কর্তব্য পালন করতে ব্যর্থ, না হবো।কিন্ত; যখন আমি এই সকল প্যারামিটারে ব্যর্থ হবো তখন আমার আদর্শিক বিষয়াবলী কতোটা যৌক্তিক হবে তা বিবেচ্য বিষয়।
আমি নাগরিক হিসেবে দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকাটা যেমন জরুরী তেমনি আমার মৌলিক অধিকার সমুন্নত রাখাটাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং আমার ন্যায্য অধিকার।আমারও আছে মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকবার অধিকার। প্রসঙ্গত, অন্ন, বস্ত্র,শিক্ষা,চিকিৎসা ও বাসস্হান আমার সাংবিধানিক অধিকার। বলছি এ জন্য যে,রাষ্ট্র হিসেবে এই মৌলিক অধিকার সমূহ নিশ্চিত না করে আমাকে শুধু আইন মানতে বাধ্য করবেন তা কতোটা যৌক্তিক ও সমিচীন হবে তাভাববার বিষয়!প্রতিটি সেক্টরে অনিয়ম ও জোর-জবরদস্তি একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্তই চলতে পারে তা অতিক্রান্ত হবার পর নয়!অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে একটি সমাজ বা রাষ্ট্র বেশিদিন চলতে পারেনা।

 

 

আজ আমরা কি দেখতে পাচ্ছি! মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা, জননেত্রী,মানবতার মা তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।দিন-রাত পরিশ্রম করে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন এই বৈশ্বিক মহামারী মোকাবেলা করবার জন্য।কিন্তু;তার যে উইংস্ গুলো আছে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় সবগুলো যদি সমান্তরালভাবে কাজ না করে তার চেষ্টা, শ্রম কতোটা কার্যকর হবে তা ভাববার বিষয়! তিনি ইতিমধ্যে কয়েকটি স্তরে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহন করেছেন যা মাঠ পর্যায়ে অন্যভাবে উপস্হাপন বা কার্যকর করতে দেখা যাচ্ছে। গার্মেন্টস প্রসঙ্গে যদি বলি মালিক মহোদয়গন অনেক কান্নাকাটি করে প্রণোদনার অংশিদার হলেন শেষ পর্যন্ত কি হলো? অবাধে তারা শ্রমিক ছাটাই ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছেন। ব্যবসায়ী দের প্রণোদনার টাকা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান গুলো ঠিক ছাড় দিয়ে নিয়েছেন কিন্তু মাঠ পর্যায়ে তার বাস্তবায়ন প্রতিফলিত হচ্ছে অন্যভাবে।

 

 

কোভিট-19 যুদ্ধে যাদের আমরা ফ্রন্ট ফাইটার ভাবছি!তাদের সংক্রমণজনিত প্রণোদনার যথোচ্ছাচার ব্যবহার হচ্ছে কি না তাও ভেবে দেখবার বিষয়। ইতিমধ্যে তাদের অতি:সংক্রমন অতিমাত্রায় ভাবিয়ে তুলছে! খাদ্য নিরাপত্তাব্যবস্থা ‘য় যারপর নাই যা তা ব্যবহার হয়েছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতিকে বৃদ্বাঙ্গুলি দেখিয়ে যারপর নাই অনিয়ম আমাদের অনিশ্চিত যাত্রা নিশ্চিত করেছে। ব্যাংক ও অার্থিক প্রতিষ্ঠান গুলো গ্রাহকে পুঁজি সরবরাহ করা তো দুরের কথা বিভিন্ন কায়দা-কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে ঋণ আদায় কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে কিন্তু নতুন করে কোন বিনিয়োগ করছে না যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা দের জন্য মরার উপর খড়ার ঘা হয়েছে। স্বাস্হ্য সুরক্ষা ব্যবস্হায় যার পি,পি,ই, মাক্স প্রয়োজন তার নেই অথচ যাদের নিস্প্রয়োজন তারা দিব্বি পাচ্ছে।

 

প্রসঙ্গত,লকডাউন মানবো কিন্তু মানবোনা!একজন পিতা-মাতা’র কাছে তার সন্তানের মৌলিক অধিকার তথা ক্ষুধা নিবৃত করবার অসামর্থের কাছে সকল আইন-কানুন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।কেননা করোনা ভাইরাসের চেয়ে ক্ষুধা অনেক অনেক বেশি শক্তিশালী যা বলবার অপেক্ষা রাখেনা।কবি যতার্থই বলেছেন,ক্ষুধার রাজ্যে একফালি চাঁদ,,,,,,,,,,?তাই আসুন সমাজ,রাষ্ট্র তথা বৈশ্বিক; এই মহামারিতে ব্যক্তিস্বার্থ ব্যতিরেকে সকলের স্বার্থ সমুন্নত রেখে সততা ও একনিষ্ঠভাবে কাজ করি তবে আপনিও বাঁচবেন!সেই সাথে অনেকেই! ভালোথাকবে পৃথিবী ও পৃথিবীর সৃষ্টি গুলো! নচেৎ “লকডাউন” ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

লেখকঃঃ অদম্য গোলাম মোস্তফা,রংপুর।

Spread the love

আর্কাইভ

January 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031