সিলেট ১১ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:১৬ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার অভিযোগে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর জের ধরে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা থেকে ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা শুরু করে মার্কিন বাহিনী। বুধবার বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই অভিযান ইরানের অযৌক্তিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি আনুপাতিক প্রতিক্রিয়া। হামলার পর পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির উপকূলবর্তী এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
সেন্টকম জানায়, ভূপাতিত হেলিকপ্টারের দুই পাইলটকে একটি মার্কিন চালকবিহীন সমুদ্র ড্রোনের মাধ্যমে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো এমন উদ্ধার অভিযানে এই ধরনের ড্রোন ব্যবহারের বিষয়টি প্রকাশ্যে নিশ্চিত করল মার্কিন সামরিক বাহিনী।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, `দুই পাইলটই নিরাপদ ও অক্ষত রয়েছেন। কিন্তু এই হামলার জবাব দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য ছিল।‘
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরান একটি ড্রোন ব্যবহার করে হেলিকপ্টারটিতে হামলা চালিয়েছিল। তবে হামলাটি ইচ্ছাকৃত ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে ইরানের আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সির বরাতে জানান হয়, হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার দায় ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের প্রতিরক্ষা ও রাডার ব্যবস্থা। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বান্দার আব্বাস, কেশম ও সিরিকসহ পারস্য উপসাগরীয় উপকূলীয় এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, `এটি তাদের কর্মকাণ্ডের জবাব। তারা আমাদের হেলিকপ্টারের ওপর হামলা চালিয়েছিল। আমাদের প্রতিক্রিয়াও শক্তিশালী ও কার্যকর হওয়া উচিত ছিল, এবং আমরা তাই করেছি।‘
এদিকে, মার্কিন হামলার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, `ইরান কোনো হামলা বা হুমকি জবাবহীন রাখবে না।‘
তিনি আরও বলেন, `নিরাপদ থাকতে চাইলে বিদেশি বাহিনীগুলোর আমাদের অঞ্চল ছেড়ে চলে যাওয়াই উত্তম।‘
এই ঘটনার মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। তেহরান পূর্বেই সতর্ক করেছিল যে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা নতুন করে প্রতিশোধমূলক আক্রমণের কারণ হতে পারে।
তবে সম্প্রতি ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘর্ষের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল।