সিলেট ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:৩২ অপরাহ্ণ, জুন ৫, ২০২৬
প্রতিনিধি / বালাগঞ্জ ::
সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ দয়ামীর-দেওয়ান বাজার সড়কের মাদরাসা বাজার থেকে মোরার বাজার অংশে চলমান সংস্কার কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কাজের মান নিশ্চিত না করলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি আবারও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ছোট-বড় গর্ত ও ভাঙনের কারণে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়া সড়কটির সংস্কার কাজ সম্প্রতি শুরু হয়েছে। তবে সংস্কার কাজে পুরাতন কার্পেটিং খুঁড়ে পলিমাটি দিয়ে রোলার করা হচ্ছে। এছাড়া বড় বড় গর্তে নিম্নমানের ইটের খোয়া ফেলে অনেক স্থানে কাদা ও জমে থাকা পানির মধ্যেই কার্পেটিংয়ের কাজ চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে সড়কের প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যেভাবে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে কাজ করা হচ্ছে, তাতে কয়েকদিনের মধ্যেই কার্পেটিং উঠে গিয়ে পুনরায় গর্ত ও ভাঙনের সৃষ্টি হতে পারে। এতে সরকারি অর্থের অপচয় ছাড়া জনগণের কোনো স্থায়ী উপকার হবে না। চলমান সংস্কার কাজের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
জানা গেছে, বালাগঞ্জ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অধীন প্রায় সাত কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি পশ্চিমে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দয়ামীর বাজার এবং পূর্বে সিলেট-সুলতানপুর-বালাগঞ্জ সড়কের মোরার বাজারকে সংযুক্ত করেছে। হালকা, ভারীসহ সব ধরনের যানবাহন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে থাকে। বিশেষ করে মাদরাসা বাজার থেকে মোরার বাজার পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার অংশের পাশে দুটি বাজার, গহরপুর জামেয়া, দেওয়ান আব্দুর রহিম দ্বি-পাক্ষিক হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, হযরত শাহ সুলতান মাদরাসাসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন।
দেওয়ান বাজার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আ ফ ম শামিম এবং গহরপুর জামেয়ার শিক্ষক মাওলানা আব্দুল কায়ুম অভিযোগ করে বলেন, “সড়ক সংস্কারে মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে না। এভাবে কাজ চলতে থাকলে কিছুদিনের মধ্যেই আবারও গর্ত ও ভাঙনের সৃষ্টি হবে। জনগণের স্বার্থে টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী সংস্কার কাজ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে বালাগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজমির শরীফ প্রতিবেদককে বলেন, “যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সংস্কার কাজ চলছে। অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজের অভিযোগ সঠিক নয়। বৃষ্টির কারণে কিছু স্থানে পানি জমে থাকতে পারে। পানি সরে গিয়ে শুকিয়ে গেলে কার্পেটিংয়ের কাজ সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় দেওয়ান বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল আলমকে সঙ্গে নিয়ে বুধবার তিনি সড়কের সংস্কার কাজ পরিদর্শন করেছেন।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কাজের মান যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনে টেকসই সংস্কার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।