সিলেট ৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯:২১ অপরাহ্ণ, জুন ৮, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
আগামী অর্থবছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আনুমানিক ১৪ লাখ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
আজ সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় এই তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাকের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানান, বিগত ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোট ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৫ জন বাংলাদেশি কর্মী বৈদেশিক কর্মসংস্থান লাভ করেছেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দক্ষ ও পেশাদার কর্মী পাঠানোর মাধ্যমে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে সরকারের পক্ষ থেকে নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব দেশে বর্তমানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বন্ধ বা সীমিত রয়েছে, সেসব দেশের শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত ও সম্প্রসারণের জন্য মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনের সঙ্গে সরকারের কূটনৈতিক আলোচনা ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলমান রয়েছে।
বিদেশগামী তরুণদের ঋণ নিয়ে নুরুল হক নুর বলেন, ‘বিদেশগামী তরুণদের জন্য ব্যাংক ঋণের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়ে সরকার কাজ করছে। প্রবাসী শ্রমিকরা যাতে হয়রানি বা প্রতারণার শিকার না হয় তা বন্ধে সরকার কাজ করছে। এ ছাড়া বর্তমানে বিদেশগামী যুবকদের জন্য ৮ শতাংশ সুদে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক ঋণ দেয় সরকার। যা বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা, শিশু শ্রম ও জবরদস্তিমূলক শ্রম বন্ধকরণ, সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সরকার বদ্ধপরিকর। এ ছাড়া প্রবাসীদের কল্যাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো কাজ করছে।’
প্রবাসীদের মরদেহ ফেরত আনার বিষয়ে সরকার আন্তরিক জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিএমইটির কার্ড নিয়ে যারা বিদেশে কাজ করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করছেন, তাদের মরদেহ সরকার বিনা খরচে দেশে আনছে।’
এ ছাড়াও যাদের কার্ড নাই তাদের লাশও মানবিক কারণে সরকারি খরচে দেশে আনা হয় বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে কোনো নারী শ্রমিক যৌন হয়রানি বা নির্যাতনের শিকার হলে মন্ত্রণালয়ের টোল ফ্রি নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। সরকার এসব বিষয়ে সজাগ আছে। এছাড়া বিভিন্ন এজেন্সির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।’