‘পার্টি ফান্ড’ কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে অভিযান মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের

প্রকাশিত: ৪:৩৫ অপরাহ্ণ, জুন ৭, ২০২৬

‘পার্টি ফান্ড’ কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে অভিযান মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::

 

তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই রাজ্যের মদ বিক্রয় সংস্থা তামিলনাড়ু স্টেট মার্কেটিং কর্পোরেশনের (তাসম্যাক) কথিত দুর্নীতি, অনানুষ্ঠানিক অর্থ আদায় এবং ‘পার্টি ফান্ড’ সংগ্রহের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন, মদ বিক্রি থেকে অর্জিত প্রতিটি রুপি যেন সরাসরি রাজ্য কোষাগারে জমা হয় এবং কোনো ধরনের অর্থপাচার বা অনিয়ম যেন না ঘটে।

 

আজ রোববার ভারতীয় বার্তাসংস্থা এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে সরকারি সূত্রের বরাতে বলা হয়, তাসম্যাকের বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ১০২ কোটি রুপি ‘পার্টি ফান্ড’ হিসেবে অনানুষ্ঠানিকভাবে আদায় করা হতো। সরকারের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে এ ধরনের অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি রুপি রাজ্যের রাজস্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। বিষয়টি পূর্বে ক্ষমতায় থাকা ডিএমকের বিরুদ্ধে তাসম্যাক ব্যবহারের অভিযোগকেও নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

 

মুখ্যমন্ত্রী বিজয় মন্ত্রিসভা বৈঠকে তাসম্যাকের পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় নেটওয়ার্কে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনানুষ্ঠানিক নগদ সংগ্রহের ব্যবস্থা অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেন। বর্তমানে রাজ্যজুড়ে তাসম্যাকের ৪ হাজার ৪৮টি নিবন্ধিত বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে।

 

এই সংস্কার কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করছেন নিষেধাজ্ঞা ও আবগারি বিষয়ক মন্ত্রী কে. ভিগনেশ। তিনি জানান, সরকার একটি নির্ভুল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা চালুর কাজ করছে, যার মাধ্যমে মদ বিক্রির সমস্ত আয় সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা হবে।

 

এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভিগনেশ বলেন,‘মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, দুর্নীতি বা মানুষের দুর্ভোগ থেকে অর্জিত রাজস্ব এই সরকারের প্রয়োজন নেই। অনিয়ম অবিলম্বে বন্ধ করে জনগণের অর্থ সরকারি কোষাগারে ফিরিয়ে আনাই সরকারের লক্ষ্য।’

 

প্রতিবেদনে আবগারি বিভাগের কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়, গত দুই দশক ধরে তাসম্যাকের সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্যে অনানুষ্ঠানিক অর্থ সংগ্রহ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছিল। প্রতিটি মদের কেস থেকে গড়ে ৯০ রুপি, প্রতিটি বিয়ারের কেস থেকে ৪০ রুপি এবং ওয়াইনের কেস থেকে ২০ রুপি ‘পার্টি ফান্ড’ বা রাজনৈতিক তহবিলের নামে আদায় করা হতো। এই অর্থ সংগ্রহ গুদাম, পরিবহন এবং খুচরা বিক্রয় পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।

 

প্রতিমাসে প্রায় ৮৮ লাখ ক্রেতা তাসম্যাকের মাধ্যমে মদ ক্রয় করেন। অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, প্রতি মাসে অন্তত ১০২ কোটি রুপি সরকারি হিসাবের বাইরে চলে যেত বলে অভিযোগ রয়েছে।

Spread the love

আর্কাইভ

June 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930